* নায়েবদের বিশেষ জায়গায় বদলি জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ঘুষ।
* টাকার বিনিময়ে খাসজমি জলমহল ইজারা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ।
* অঢেল সম্পদের পাহাড়- ব্যাংক ব্যালেন্স।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা ডিসি অফিসের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাখার সিএ জিয়াউর রহমানের ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন হওয়ায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। খোদ ডিসি অফিসে বসে জেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন সিএ জিয়া। ঘুষের টাকার মাসিক মাসহারা না পেলে সেই সকল সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। আবার লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘুষের অভয়ারণ্যে অফিসে বদলি করা হয় অনান্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের। সম্প্রতি অবৈধ সম্পদের অর্জনের দায়ে শ্যামনগর আটুলিয়ার নায়েব দুর্নীতিবাজ আশরাফুউজ্জামানকে কলারোয়া জালালাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। জালালাবাদ ভূমি অফিস ঘুষের উপযুক্ত না হওয়ায় সিএ জিয়ার মাধ্যমে লাখ টাকার বিনিময়ে নায়েব আশরাফুউজ্জামান বদলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে আগামী মাসে।
সূত্র বলছে, নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বদলির জন্য গোপনে জিয়ার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের ভাড়াবাড়িতে টাকা লেনদেন করা হয়েছে। টাকা নিয়ে জিয়া আশ্বস্ত করেছে এপ্রিল মাসে কয়েকজন নায়েবকে বলদির প্রজ্ঞাপন করা হবে সেই তালিকায় নায়েব আশরাফুউজ্জামানকে বিশেষ একটি ভূমি অফিসে বদলি করা হবে। বেপরোয়া এই জিয়া নায়েব থেকে ঘুষে রটাকা নিয়ে শুধু বদলি নয় তাদের অপরাধের শাস্তিও মাফ করান। সাতক্ষীরা ডিসি অফিসে জিয়ার সিন্ডিকেট খুব শক্তিশালী। জিয়ার সকল ধরনের কাজের সিন্ডিকেট করে মোটা অংঙ্কের টাকার বিনিময়ে। খাস জমি ইজারা,জলমহল বালুৃহল, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের অপরাধ মাফ করানোর নিয়ন্ত্রণ
এই জিয়া।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়,
ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের বদলির জন্য জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসগুলোতে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। সিএ জিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইনের খুবই ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন। জেলাজুড়ে দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের থেকে মাসিক মাসহারা নেন মইনের নামে সিএ জিয়াউর । অথচ এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মইনূল ইসলাম জানেন না দাবি করেছে কতৃপক্ষ। ভূমি অফিসের কোন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে মিডিয়ায় প্রকাশ হলে জিয়া তাকে অপরাধ থেকে বাঁচানোর জন্য জোর তদবির করেন এডিসি মইনের কাছে ।অপরাধীকে নিজের আত্নীয় বানিয়ে কৌশলে অপরাধ মাফ করিয়ে পরে তার থেকে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ জমা হলেও জিয়ার সিন্ডিকেট সেটা টাকার বিনিময়ে ডিসমিস করে দেন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মাচারীদের বদলি, গুরুতর অভিযোগ ডিসমিস সকল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে সিএ জিয়াউর ৷ বেপরোয়া জিয়াউর নিজেকে ডিসি মনে করে মানুষের সাথে রুক্ষ আচারণ করে। টাকার বিনিময়ে রাজস্ব শাখার অধীনে বড় ছোট খাসজমি, জলমহল ইজারা পাওয়ায়ে দেন জিয়াউর।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,
সিএ জিয়াউর রহমানের বাড়ি তালায়। সে ঘুষের টাকয় তালায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছে। মাঠে কৃষি জমি, ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপোজিট, শহরের একটি জায়গায় প্লট ক্রয় করেছে।
একের পর এক নায়েব পিয়নদের ঘুষলেনদেন প্রকাশ্য এলেও টাকার বিনিময়ে ব্যবস্থা নিতে দেয়না এই জিয়া । জিয়ার সিন্ডিকেটের কাছে এখন অসহায় রাজস্ব শাখা একের পর এক প্রকাশ্যে আসে ঘুষ লেনদেন তবুও ব্যবস্থা নিতে পারেন না। গণমাধ্যমে এসব ভিডিও প্রকাশিত হলে রাতারাতি টাকার বিনিময়ে শাস্তি না দিয়ে বদলি করা হয় । ঘুষ লেনদেনে জড়িত তালা নগরঘাটার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মুকিত, খেশরার সহকারী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত হয় । কিন্তু তাদের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে জিয়ার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুন: বহাল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির বলেন, ভূমি অফিসে ঘুষ নেয় এটা সবাই জানে।মানুষ মেনে নিয়েছে ঘুষ দেওয়া। কিন্তু সবচেয়ে সমস্যা প্রকাশ্য ঘুষগ্রহণ মিডিয়ায় প্রচার হলে আমরা বিপাকে পড়ি তখন সমস্যা তৈরি হয় চাপ আসে। তবে এডিসি রাজস্ব মইন স্যার ভাল মানুষ জানি তবে তার সিএ জিয়াউর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মাচারীদের বদলির বিনিময়ে টাকা নেয় মইন স্যারের নাম করে। তবে এটা সত্য জিয়া যাদের থেকে টাকা নেয় সবাইকে বদলি করিয়ে দিয়েছে সে কথা রাখে ঘুষখোর হলেও ভাল । এখন মইন স্যার বদলির টাকা ভাগ পায় কি না আমারা জানি না। আমরা সিএ জিয়াউরের মাধ্যমে লেনদেন করি মইন স্যারের সাথে সরাসরি কোন লেনদেন হয় না।ভূমি অফিসে হয়রানিপ্রাপ্ত আশাশুনির আলাউদ্দীন বলেন, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না ভূমি অফিসে। আমি এক দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও কোন সুরহা পায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রাজস্ব শাখার বড়বাবু জিয়াকে দিয়ে সব ম্যানেজ করেছে সেই দুর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক।সামাজিক আন্দোলনের নেতা হাসানুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে টাকার খেলা চলে। নামজারি সরকারি খাজ জমি ইজারা খাজনা দাখিলা নেওয়া হয় টাকা। প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহনের পরও ডিসি অফিস কেন পদক্ষেপ নেয় না তাহলে এসকল দুর্নীতিবাজরা মাসিক মাসহরা দেয় । ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করে সিএ জিয়া। সব দুর্নীতিবাজকে সিএ জিয়া টাকার বিনিময়ে বাঁচায়। সিএ জিয়াকে বদলি করা হোক তার অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী রাজস্ব শাখার সিএ জিয়াউর বলেন, অনেকেই অভিযোগ করতে পারে কিন্তু প্রমাণ আছে।আপনি নিউজ না করে সরাসরি অফিসে দেখা আসেন মইন স্যারের সাথে কথা বলে সমাধান করব।
রাজস্ব শাখার সিএ জিয়ার ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরুক্ত জেলা প্রশাসক মইনূল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।