সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকা অর্থায়নে পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে নদীর চর দখল ও গাছপালা কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের তীর পাউবোর স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দিকেও।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নদী সংলগ্ন দূর্গাবাটি আকাশ নিলা টুরিজম এলাকায় সম্প্রতি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজের অংশ হিসেবে নদীর চর এলাকায় মাটি ভরাট ও বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার কার্যক্রম চলছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ঠিকাদার সবুজ খান তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা কেটে নিচ্ছেন। তিনি বলেন,
“আমার জমির সীমানার ভেতরে থাকা গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করায় এখন আমাকে চাঁদাবাজ হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয়দের মতামত বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই নদীর চর এলাকায় কাজ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদীর চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর দ্রুত সেসব গাছ কাটা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
এ দিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম–এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রকল্প এলাকায় অনিয়ম হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন , প্রকল্পের কাজ সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং অবৈধভাবে জমি দখল বা গাছ কাটার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার সবুজ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।