নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার এলাকার পুটিয়াখালী মৌজার ক-তফসিলভুক্ত সরকারি জমির ওপর নির্মিত প্রায় ২ শতক জায়গার একটি দোকান পুনরায় চালুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানটি পুনরায় চালুর জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থের বিনিময়েই প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে দোকানটি চালুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি জায়গায় অবস্থিত দোকানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। হঠাৎ করেই দোকানটি পুনরায় চালু হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি রহস্যজনক এবং এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানটি হঠাৎ কীভাবে চালুর অনুমতি পেল? কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? অভিযোগ অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকার উৎস ও লেনদেনের বাস্তবতা কী?
এদিকে, “দৈনিক সোনার বাংলাদেশ” পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরপরই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাটকীয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা গ্রহণে ভূমি অফিসের নাজির রুহুল আমিন আমিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি জমি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।