নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (জনস্বাস্থ্য অফিস) অফিস সহায়ক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ধারাবাহিকতায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে তার বর্তমান কর্মস্থল গোপালগঞ্জকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরায় কর্মরত থাকাকালীন গড়ে তোলা প্রভাব ও আর্থিক নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা তিনি নতুন কর্মস্থলেও বজায় রেখেছেন।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং অফিস সংশ্লিষ্ট কাজে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ ওঠে ইমরানের বিরুদ্ধে। ওই সময়েই তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি, বাড়ি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য সামনে আসে।
বর্তমানে গোপালগঞ্জে কর্মরত থাকলেও তার আর্থিক কার্যক্রম ও সম্পদের বিস্তার থেমে নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গোপালগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নতুন কর্মস্থলেও তিনি আগের মতোই প্রভাব খাটাচ্ছেন। বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রকল্পের ফাইল প্রসেসিং, ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দাপ্তরিক কাজে প্রভাব বিস্তার করে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তার সম্পদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, একজন অফিস সহায়কের পক্ষে এ ধরনের আর্থিক সক্ষমতা অর্জন স্বাভাবিক নয়। তারা বলছেন, “একটি জেলার অফিসে কর্মরত অবস্থায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এবং পরে অন্য জেলায় বদলি হয়ে একই অভিযোগ ওঠা—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।”
এদিকে সাতক্ষীরা থেকে গোপালগঞ্জে বদলি হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বদলি নয়—তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ইমরান হোসেনের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন সাধারণ অফিস সহায়ক কীভাবে অল্প সময়ে কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।