নিজস্ব প্রতিবেদক ভোলা;
ভোলা জেলায় এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পরও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শশীভূষণ থানায় মামলা নং-২৩৪/২৬, তারিখ ২২ মে ২০২৬ ইং দায়ের হওয়ার পরও হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে থানার আশপাশে অবস্থান করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা চা-স্টল ও বিভিন্ন আড্ডাস্থলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—একজন গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হওয়ার পরও যদি অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে আইনের শাসন কোথায়?অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগ উঠলেই কিছু অসাধু মহল ও প্রশাসনের নির্দিষ্ট অংশ অত্যন্ত দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। তদন্তের নামে চলে হয়রানি, ফোনকল, চাপ সৃষ্টি ও মানসিক নির্যাতন। এতে করে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সত্য প্রকাশ করাই যদি আজ সবচেয়ে বড় অপরাধে পরিণত হয়, তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একজন সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ তুলে ধরেন। অথচ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে উল্টো তাকে হয়রানির শিকার হতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।দেশজুড়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—আইনের চোখ কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের জন্য আলাদা কোনো “ভিআইপি আইন” কার্যকর রয়েছে?
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।