নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৈনিক যশোর বার্তা পত্রিকায় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইনের বদলির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অভিযোগে সমালোচিত এই কর্মকর্তা অবশেষে অপসারিত হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিতর্কিত সিএ জিয়াউর রহমান এখনো বহাল থাকায় জনমনে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি শাখাকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, সিএ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ঘুষ ছাড়া কার্যত কোনো কাজই সম্পন্ন হতো না। সাধারণ মানুষকে ন্যায্য সেবা পেতে গুনতে হতো অতিরিক্ত টাকা, আর বদলি বাণিজ্য ছিল প্রকাশ্য গোপন রহস্য।
দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর জনমত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় এবং মইনুল ইসলাম মইনকে বদলি করা হয়। তবে একই দপ্তরের আলোচিত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—বদলি হওয়ার পরও মইনুল ইসলাম মইন পুনরায় প্রভাব বিস্তার বা একই অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে দাবি করছেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে।সচেতন মহলের মতে, “শুধু একজন কর্মকর্তাকে বদলি করলেই দায় শেষ হয় না। পুরো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে না।” তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।