যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ ভয়াবহ সেই বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও নিজের জীবনের চেয়ে বেশি নেতার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা ছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন আল মায়াদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, জেনেভা আলোচনার পর শুক্রবার ফিরে এসে শনিবার সকাল ৯টায় আমি সাইয়্যেদ খামেনির কার্যালয়ে যাই। সেখানে আমি আলোচনা ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিই। আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখনও ভবনের ভেতরে ছিলেন যখন হামলা চালানো হয়। ভবনের একাংশ পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের মুহূর্তে আমি তার অফিসেই ছিলাম, যেখানে হামলা হয়।নিজের বেঁচে থাকা নিয়ে তখন তিনি ভাবেননি বলেও জানান আরাগচি। তিনি বলেন, বোমা হামলার সময় আমি নিজের জীবন নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না, আমি নেতার নিরাপত্তা নিয়েই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলাম।এরপরের ৪৮ ঘণ্টা তিনি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে কাটান এবং শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হন যে সুপ্রিম লিডার নিহত হয়েছেন।
আরাগচি জানান, হামলার আগে খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, খামেনি বলেছিলেন, যতক্ষণ না ইরানের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ আমি কোনো নিরাপদ স্থানে যাব না। আমার জনগণ যা ভোগ করবে, আমিও তাই ভোগ করব।আরাগচি আরও বলেন, খামেনি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করতেন এবং যুদ্ধকালীন নির্দেশনা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরাসরি তিনি দিতেন।