নিজস্ব প্রতিবেদক;সাতক্ষীরা
দৈনিক যশোর বার্তায় ভোমরা স্থলবন্দর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক পর্ব প্রকাশ হতেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ আতিকুল ইসলামকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থ–বাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন মহল তার অপকর্ম ধামাকা চাওয়ার বা চাপ কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় গরমিল ভোমরা স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ ও বের হয়। ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাক সিরিয়াল, পার্কিং এবং দ্রুত ক্লিয়ারেন্সে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অনেক সময় নিয়ম মেনে অপেক্ষা করলেও ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, “নিয়ম মেনেও দিনের পর দিন বসে থাকতে হয়, কিন্তু বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তরা দ্রুত কাজ শেষ করে বের হয়ে যান।”স্থানীয়রা মনে করছেন, বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ আতিকুল ইসলামের দপ্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।অনিয়ম ও লেনদেনের চক্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রাক মালিক জানিয়েছেন, ট্রাক সিরিয়াল এবং দ্রুত ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি অঘোষিত চক্র সক্রিয়। নির্ধারিত ফি ছাড়াও বড় অঙ্কের অর্থ না দিলে কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি বাড়ছে।স্থানীয়রা মনে করছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রাক সিরিয়াল নির্ধারণ করলে বিতর্ক কমে আসবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।কোটি টাকার সম্পদ ও জুনিয়র কর্মকর্তার ভূমিকা স্থানীয়দের দাবি, মোঃ আতিকুল ইসলামের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে উঠেছে। যদিও সরকারি নথি বা দুদকের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন তীব্র। তার জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মামুনও ট্রাফিক সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রয়োগ ও আর্থিক লেনদেনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।মোঃ আতিকুল ইসলাম অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় মোবাইল ফোনে সংক্ষেপে জানান, “এ বিষয়ে আমি মোবাইলে কোনো বক্তব্য দিতে চাই না, আপনি আমার অফিসে আসেন।”প্রকাশনার পর চাপ ও ধামাকা চাওয়ার চেষ্টা দৈনিক যশোর বার্তায় কয়েক পর্ব প্রকাশ হতেই বোঝা যাচ্ছে—কোনো কোনো মহল অপকর্ম ধামাকা চাওয়ার এবং সত্য উদঘাটন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এই ধরনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন।বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লিখিত ও প্রমাণসমর্থিত অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে তদন্ত করবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ব্যবসায়ীদের দাবিস্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাল সিরিয়াল সিস্টেম, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে ভোমরা স্থলবন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও ঝামেলামুক্ত ও গতিশীল হবে।