নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঘোরাফেরা এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে শুকুর আলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দাবি, শুকুর আলীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পেরে তাকে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের পরও তার কর্মকাণ্ড থেমে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে শুকুর আলী বিভিন্ন দপ্তরে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করেও বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে বর্তমানে দৈনিক সোনার বাংলাদেশের কোনো সাংগঠনিক বা পেশাগত সম্পর্ক নেই।
ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সম্মানহানির অভিযোগ
শুকুর আলীর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—বিভিন্ন নামে বা ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সম্মানিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব আইডির মাধ্যমে ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব ফেসবুক আইডি পরিচালনার সঙ্গে শুকুর আলীর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জামালপুরের বাসিন্দা, ঢাকায় এসে সাংবাদিক পরিচয়ের অভিযোগ
প্রাপ্ত পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুকুর আলীর স্থায়ী এলাকা জামালপুর জেলা। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকায় এসে তিনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ এবং নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পত্রিকার নাম অপব্যবহার নিয়ে সতর্কতা
দৈনিক সোনার বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুকুর আলীকে পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও তিনি যদি কোথাও পত্রিকার নাম, পরিচয় বা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড। এর দায় পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাফেরা, পত্রিকার নাম ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সম্মানহানির অভিযোগ—শুকুর আলীর এসব কর্মকাণ্ডের শেষ কোথায়?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।