
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা;সাতক্ষীরার বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং এর পরিচালক ডা. মো. হাফিজুল্লাহকে ঘিরে গত কয়েক বছরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসায় অবহেলা, রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবুও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কিশোর তাহসিনের মৃত্যুর অভিযোগ ২০২৬ সালের ২ জুন বাঁশদহা গ্রামের ১৩ বছরের কিশোর তাহসিন গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় চিকিৎসক ও নার্সকে পাওয়া যায়নি, রিপোর্ট পেতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, শ্বাসকষ্ট হলেও অক্সিজেন দেওয়া হয়নি এবং আইসিইউ সুবিধা না থাকায় উন্নত চিকিৎসাও নিশ্চিত করা যায়নি। পরে তাহসিনের মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ নিহতের স্বজনদের দাবি, চিকিৎসার যথাযথ সেবা না পেলেও তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেন।
সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
২০২৫ সালের মার্চে রোগী রেফার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি ট্রমা সেন্টারের সামনে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় ডা. হাফিজুল্লাহসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ডা. হাফিজুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন। এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।