স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে নামলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলিল নিবন্ধনের সময় ঘোষিত মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানোর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় অফিস সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও দালালচক্র অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করছে।ক্ষমতার অপব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী ও ভুক্তভোগীর দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযোগকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে ফাইল আটকে রাখা, অকারণ আপত্তি দেওয়া ও দীর্ঘসূত্রতার মাধ্যমে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণমাধ্যমকে টার্গেট করার অভিযোগ
একাধিক সাংবাদিকের অভিযোগ, বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান বা সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে ব্যক্তিগতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। কেউ কেউ জানান, প্রভাব খাটিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে মামলার হুমকি
সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিককে সরাসরি মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম ওই সাংবাদিককে ফোনে ও ব্যক্তিগতভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
ব্যক্তিগত অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
এছাড়াও কিছু সূত্রের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে সমালোচক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য, ভীতি প্রদর্শন কিংবা চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাই ও তদন্তসাপেক্ষ।তদন্তের জোর দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও প্রশাসনিক অডিট দালালচক্র উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাময়িক প্রত্যাহার এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।