ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসাইন (হোসেন)-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কাজগুলোতে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং গুণগত মানহীন কাজ করিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা দাবি করেন, তিনি সরকারের প্রকল্পগুলোতে বিভিন্ন কৌশলে স্বল্পমূল্যে চুক্তি দেয়া, নকল বিল-পে-স্লিপ তৈরি, কাজের মানদণ্ডে গাফিলতি এবং সরকারি তহবিলের নির্দিষ্ট অংশের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছেন।দুর্নীতির মূল অভিযোগগুলো
প্রকল্প বরাদ্দের কাজে ঘাটতি ও বিকৃত হিসাব
সরকারি বরাদ্দের টাকা প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।চুক্তিভিত্তিক কাজের মানহীনতাপানি উন্নয়ন বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে নির্মাণ মানদণ্ড না মেনে, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করানো হয়—যার ফলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কাজের অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতিপূর্ণ বরাদ্দ
নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে চুক্তি দেওয়া, দরপত্রের নিয়মাবলি উপেক্ষা করে কাজের বরাদ্দ দেয়া—এসব অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনিক মহলেও গুঞ্জন হিসেবে রয়েছে।
বিল-ভাউচার ও অর্থ লেনদেনে অনিয়ম
প্রকল্পের বিল জমা ও অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে নথিপত্রে গড়মিল ও কৃত্রিম খাতের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও উদ্বেগ স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজে অনিয়ম হলে প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছায় না। ফলে নদী ভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিয়ন্ত্রণের কাজগুলো ব্যর্থ হচ্ছে।তাদের মতে, “সরকারি তহবিল নষ্ট হলে জনগণের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”পাউবো সূত্রের তথ্যপানি উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হোসাইন (হোসেন) নিয়োগকাল থেকে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। কিন্তু তদন্ত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল বের হয়নি।সুত্ররা বলেন, “কয়েকটি প্রকল্পে কাজের মানহীনতা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে, তবু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব।”উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রশ্নএখন প্রশ্ন হচ্ছে—কেন এতদিন পর্যন্ত কোনো তদন্ত শুরু করা হয়নি?কেন এত বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি?এগুলোর জবাব না পেলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়—এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।