সাতক্ষীরা অফিস:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত গাজী শাহ আলমকে ঘিরে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, অস্ত্র চোরাচালান, জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সহিংসতার অভিযোগ উঠে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলম প্রকাশ্যে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বলেন—পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা তার নিয়ন্ত্রণে, ফলে কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এমন বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে শাহ আলম সীমান্তবর্তী এলাকায় নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অস্ত্র পরবর্তীতে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শ্যামনগর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে পরানপুর বাজারে তিনটি দোকানে কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় তার সিন্ডিকেট জড়িত বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি; বরং দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আওয়ামী লীগের পরিচয় ত্যাগ করে নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের কমিটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠে। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে জেলা জাসাসের একটি কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।এদিকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অস্ত্রসহ আটক হওয়ার পরও থেমে নেই তার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একাধিক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে গেছে এবং ভুক্তভোগীরা বিচার পাচ্ছেন না। শুধু অপরাধ কর্মকাণ্ডই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এতে এলাকায় তার বিরুদ্ধে জনমত আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাহ আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার আরও বাড়বে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শাহ আলম। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।