নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় “প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা”র নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, এনজিও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকার অনুদান এলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। প্রকল্পের ব্যানার, ছবি ও কাগুজে প্রতিবেদন তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুদান ও সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে ভারতে সম্পদ গড়ে তোলা, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি এখন শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার দাবি রাখে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি অর্থ পাচার, নাগরিকত্ব আইন লঙ্ঘন এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের মতো গুরুতর বিষয়ে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
একজন শিক্ষক ও এনজিও পরিচালকের আয় দিয়ে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ, জমি, ভবন ও ব্যয়বহুল জীবনযাপন সম্ভব?
অভিযোগ রয়েছে, শ্যামনগরে জমি ক্রয় ও নির্মাণকাজে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় উচ্চমূল্যের বাসাভাড়া, সন্তানদের ব্যয়বহুল শিক্ষাজীবন এবং ব্যক্তিগত খরচের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
কয়েকজন সাবেক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ভয়ভীতি, অপমান ও চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতো। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু ছিল।
অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়ম আড়ালে থেকে যেতে পারে। তারা দুদক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শম্পা গোস্বামীর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।স্থানীয়দের ভাষ্য—
“অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসুক। আর সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
এখন দেখার বিষয়—
এতসব গুরুতর অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও তদন্ত সংস্থাগুলো আদৌ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।