যশোর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ, ঠিকাদারি কাজে স্বজনপ্রীতি, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলার বিভিন্ন নদী শাসন, বাঁধ সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পে প্রকৃত কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে অতিরঞ্জিত বিল দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও রহস্যজনকভাবে সেগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে বারবার কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে। টেন্ডার জালিয়াতি ও পূর্বনির্ধারিত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন করে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়ের কথাও বলছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক ব্যক্তি। ফলে যোগ্য ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বাঁধ ভেঙে পড়ছে, স্লুইসগেট অকেজো হয়ে যাচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সচেতন মহলের দাবি, যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংঘটিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
(চলবে…)
পরবর্তী পর্বে উঠে আসবে নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য।