সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক বিধানের বিরুদ্ধে জাল নোট, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পরপরই ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ, দেনদরবার ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক মালিক।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্ন মহলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন এবং মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কেউ কেউ ভয়ভীতি ও প্রলোভনের কথাও উল্লেখ করেছেন, যা এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিককে ঘিরে নানা অনিয়ম, অসদাচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা শোনা গেলেও প্রভাবশালী যোগাযোগের কারণে সেগুলো কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর বিষয়টি জনসমক্ষে এলে ক্লিনিকটির অতীত কার্যক্রম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে, জাল নোট উদ্ধারের ঘটনাকে ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্বহীন করার প্রবণতা নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তদন্তে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলে সেক্ষেত্রে আলাদা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সূত্রটি ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক বিধানের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের জোর দাবি—প্রভাব, অর্থ বা পরিচয়ের কারণে যেন প্রকৃত অপরাধীরা আড়াল না পায়। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন এবং একই সঙ্গে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামগ্রিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে পর্ব তিনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।