নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতি পেলেও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পুরোনো পদেই বহাল রয়েছেন। এতে জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল পরিশোধ এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
📌 পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা
🔹 আব্দুল বাছেদ
বর্তমান পদ: উপজেলা প্রকৌশলী, কালিয়াকৈর উপজেলা
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)
🔹 বেলাল হোসেন সরকার
বর্তমান পদ: উপজেলা প্রকৌশলী, কাপাসিয়া উপজেলা
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)
🔹 আল-আমিন সরদার
বর্তমান পদ: সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর, এলজিইডি, গাজীপুর
নতুন দায়িত্ব: সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)
🔹 জামাল উদ্দিন
বর্তমান পদ: সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর, এলজিইডি, গাজীপুর
নতুন দায়িত্ব: নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)
❗ স্থবিরতার কারণ কী?
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, পদোন্নতি বা বদলির আদেশ জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আগের পদেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এর ফলে—
পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদগুলো শূন্য থাকছে
নতুন কর্মকর্তারা যোগ দিতে পারছেন না
প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন আটকে আছে
ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে
মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকিতে ব্যাঘাত ঘটছে
🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
📍 কাপাসিয়ার এক ঠিকাদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন—
“বিল আটকে আছে। অফিসে গেলে বলে স্যার নাই, নতুন স্যারও জয়েন করেন নাই। কাগজে-কলমে উন্নয়ন চললেও বাস্তবে কাজ বন্ধ।”
📍 কালিয়াকৈরের এক বাসিন্দা বলেন—
“রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত মাসে। কিন্তু ফাইল নড়ছে না। শুনছি স্যার বদলি হয়েছে, কিন্তু চেয়ার ছাড়েন নাই।”
⚠️ অভিযোগ ও বিতর্ক
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী প্রকৌশলী সংগঠনের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ফাইল আটকে রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি সৃষ্টি করছে। অনেকের মতে, এটি শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়—বরং প্রশাসনিক আদেশের প্রতি এক ধরনের ‘নীরব অসহযোগিতা’।
🏢 কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান—“বদলি ও পদোন্নতির আদেশ বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি দ্রুতই সবাই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।”
📊 আইনি দিক ও প্রাসঙ্গিকতা
সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
📢 তদন্তের দাবি
সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি জানিয়েছেন—
✔️ দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত
✔️ পদোন্নতির আদেশ বাস্তবায়ন
✔️ দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
✔️ উন্নয়ন কাজে গতি ফিরিয়ে আনা
🔚 উপসংহার:
গাজীপুরের উন্নয়ন কার্যক্রমে এ ধরনের অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি।