নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;নড়াইলে স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে কুলসুম জাহান (২৫) নামে এক গৃহবধূ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার (১০ জুন) সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের তারাশি গ্রামে তার বাবার বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসে একই ইউনিয়নে বোড়ামারা গ্রামের মৃত মনির কাজির ছেলে মো: হাদিউজ্জামান কাজির সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন তাদের দুজনের সংসার ভালভাবেই কাটছিল। এরপর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার শাশুড়ী শিউলী বেগম প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। টাকা দিতে না পারায় তার ওপর খাবারের, পোশাকের কষ্টসহ অমানবিক নির্যাতন করা হতো। এসব চলাকালীন সময়ের মধ্যে একপর্যায়ে হাদিউজ্জামান মালয়েশিয়া চলে যান। এরপর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় শাশুড়ী শিউলী বেগম। তখন তিনি স্বামীর কথা মতো বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর কিছুদিন স্বামী কুলসুমের খোজ খবর নিতেন, যোগাযোগ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে খোজ খবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। গত মার্চ মাসে স্বামী কুলসুমকে উকিল নোটিশের মাধ্যমে তালাক দেন। পরে তালাকের কাগজ উকিলের কাছে নিয়ে গেলে উকিল বলে এ তালাক কাগজ ভুয়া। মাস দুয়েক আগে কুলসুম তার স্বামী ও শাশুড়ির নামে একটা মামলা দায়ের করেন। এদিকে কয়েকদিন আগে তার স্বামী হাদিউজ্জামান বিদেশ থেকে বাড়িতে এসে। আরেকটি বিয়ে করেছেন। কুলসুম বলেন আমার ৩ বছর বয়সী একটা বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাকে নিয়ে এখন কি করবো? কোথায় যাব? এদিকে বাচ্চাটা শারিরীক ভাবেও অসুস্থ। কুলসুম তার স্বামীর অধিকার ফিরে চান। স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হাদিউজ্জামানের বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণেই কুলসুমকে তিনি তালাক দিয়েছেন৷ তালাকের কাগজও ভূয়া নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। মিডিয়ার সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হইনি সে এবং বলেন কুলসুমরা আদালতে মামলা করেছেন এ বিষয়ে আমি আদালতে কথা বলবো।