
পদোন্নতি পরও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন নেই—ফরিদা খানমকে ঘিরে প্রশাসনে নানা আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক::দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের পদায়ন নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরও তাঁকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়নি—এমন বিষয়কে ঘিরেই মূলত প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবী করেছেন গোপালগঞ্জের মেয়ে হয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছে নেই ফারিদা খানমে এটাও দুঃখজনক বিষয় তিনি শেখ হাসিনার আত্মীয় ছিলেন বলে আমরা জানি তাই বিষয়টা নতুন করে তদন্ত করে দেখার দাবি জানাচ্ছি
সম্প্রতি দৈনিক সোনার বাংলাদেশে ফরিদা খানমকে ঘিরে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর পরবর্তী প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পদায়ন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ দাবি করছেন, সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর নতুন পদায়নের বিষয়টি কি কোনো কারণে আটকে গেছে? নাকি এটি প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে ফরিদা খানমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাঁর দায়িত্ব পালন, বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে নিজের বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও কেউ কেউ তুলছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ফরিদা খানমের পারিবারিক শিকড় গোপালগঞ্জে হওয়া নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল—এমন দাবিও শোনা যাচ্ছে। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তার জন্মস্থান বা পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিজেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। এ ধরনের দাবি থাকলে তা নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—দৈনিক সোনার বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর পদায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সত্যিই কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না। যদি এসে থাকে, তাহলে এর কারণ কী এবং প্রশাসনিকভাবে এর পেছনে কোনো বিশেষ সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তবে সরকারি নথি অনুযায়ী, ফরিদা খানম যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। নতুন কর্মস্থলে পদায়ন না হওয়াকে সরাসরি সংবাদ প্রকাশের ফল হিসেবে দাবি করার মতো নিশ্চিত সরকারি তথ্য বর্তমানে নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।দৈনিক সোনার বাংলাদেশ মনে করে, একজন জেলা প্রশাসককে ঘিরে যেকোনো অভিযোগ, পদোন্নতি কিংবা পদায়ন সংক্রান্ত বিষয় জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কোনো অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা জনগণের সামনে আসা উচিত।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং ফরিদা খানমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।