স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত সার্ভেয়ার মিরাজ হোসেন ও তার ভাই শিপনের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়, দালাল সিন্ডিকেট গঠন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা যেমন নামজারি, ভূমি জরিপ ও নোটিশ জারির নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালা ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন সার্ভেয়ার মিরাজ হোসেন। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত জটিল ফাইল তদবির করে সমাধান করে দেওয়ার নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা আয় করেন মিরাজ হোসেন ও তার ভাই শিপন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরাজ হোসেনের গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর এলাকায়। নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মিরাজ হোসেন ভূমি অফিসে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় জমি ক্রয় করেছেন এবং কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিরাজ হোসেন পূর্বে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দিয়ে অন্যত্র বদলি হন। পরে পাটকেলঘাটা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন নাজিরের সাথে মিলে বাজার এলাকার খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।
পাটকেলঘাটা এলাকায় জমি সংক্রান্ত নোটিশ জারি ও জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির নামে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর তাকে বদলি করে কলারোয়া ভূমি অফিসে পাঠানো হয়। তবে সেখানেও তিনি দালালদের নিয়ে একই ধরনের ঘুষ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “ডিসিআর রিপোর্টের জন্য আমার কাছে টাকা দাবি করা হয়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দীর্ঘদিন ধরে আমার কাজ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দিলে নোটিশ জারি করা হয়।”
তালা উপজেলার কুমিরা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “সার্ভেয়ার মিরাজ হোসেন টাকা ছাড়া কোনো কাজ করতেন না। টাকা না দিলে ফাইল এগোতো না। তার নেতৃত্বে একটি দালাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মিরাজ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের কোনো ছবি বা ভিডিও আছে কি? আমারও অনেক সাংবাদিক পরিচিত আছে। নিউজ করে যদি কিছু করতে পারেন, করেন।”
অন্যদিকে তার ভাই শিপন কোনো সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না হয়েও কীভাবে ভূমি অফিসে নিয়মিত কাজ করেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন