
মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন, নিজিস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ২ নম্বর নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তৎকালীন প্যানেল চেয়ারম্যান শিব মণ্ডল, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান এনে দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু। ২০২৪ সালের আগস্টের পর চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত না যাওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য শিব মণ্ডল।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্কারকাজের জন্য ঠিকাদার কাজ করতে এলে প্যানেল চেয়ারম্যান শিব মণ্ডল ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা করে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের নামে ভুয়া বা অসঙ্গতিপূর্ণ ভাউচার তৈরি করেন। পরে এসব ভাউচারে স্বাক্ষর করে কাজ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান/সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপুর দাবি, তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য এসি, টেবিল, চেয়ার, বেঞ্চ, আলমারি, শোকেস, টয়লেট মেরামত ও রংসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করিয়েছেন। তার দাবি, এসব সামগ্রী ও কাজের ব্যয় তিনি নিজে বহন করে ইউনিয়ন পরিষদে প্রদান করেছেন।অভিযোগকারীদের দাবি, চেয়ারম্যানের নিজস্ব অর্থায়নে করা এসব কাজ ও সরবরাহকৃত সামগ্রী থাকা সত্ত্বেও সংস্কার বরাদ্দের অর্থ থেকে একই ধরনের বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভাউচার, বিল ও কাজের বাস্তব চিত্র যাচাই করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান শিব মণ্ডলের বক্তব্য নেওয়ার সময় তিনি বলেন আমি সবগুলো ঠিকঠাক বুঝিয়ে নিয়েছি।
কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের কোন কাজ হয় নাই। এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নথিপত্র, প্রকল্পের অনুমোদন, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাণ এবং অর্থছাড়ের তথ্য যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃতপক্ষে সংস্কারকাজে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কার স্বাক্ষরে বিল উত্তোলন হয়েছে এবং বরাদ্দের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
১০ লাখ টাকা বরাদ্দের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তদন্ত এবং প্রকল্পের কাগজপত্র প্রকাশের দাবি উঠেছে।