
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের হাজরাপাড়া গ্রামে তবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তবিবুর রহমান হাজরাপাড়া গ্রামের দোলোয়া মেম্বারের ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একসময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে নিজেকে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাঁদাবাজির অভিযোগস্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, তবিবুর রহমান বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ দাবি করেন। কেউ তার দাবি অনুযায়ী অর্থ দিতে না চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ বা বক্তব্য প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এতে অনেক সাধারণ মানুষ সামাজিকভাবে বিব্রত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে অসহায় ও স্থানীয়ভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পোস্ট, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগ
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো ব্যক্তি তার কথামতো না চললে কিংবা কথিত অর্থ দাবি পূরণ না করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগমূলক পোস্ট দেওয়া হলেও সেসব তথ্যের সত্যতা সবসময় যাচাই করা হয় না—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এতে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নতবিবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তারা জানেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে চলছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন বা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে তবিবুর রহমানের বক্তব্যও নেওয়া জরুরি।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তবিবুর রহমানকে ঘিরে যেসব চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও নিজের বক্তব্য ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।
তবিবুর রহমানের বক্তব্য:
এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তবিবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।