নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উঠছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ। বিশেষ করে ওই অফিসের নায়েব হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা এবং ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, খারিজ, জমির কাগজপত্র যাচাই, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে অফিসে গেলেই সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে ঘুরানো হয়। কাজের গতি বাড়াতে কিংবা ফাইল নড়াচড়া করাতে বাধ্যতামূলকভাবে টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা এবং নানা জটিলতার কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ কৃষক, দিনমজুর ও অসহায় মানুষ ভূমি সংক্রান্ত জরুরি কাজ নিয়ে অফিসে গেলেও তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও আড়ালে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, “টাকা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। অফিসে গেলেই দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভূমি অফিস মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত এসব অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।এদিকে নায়েব হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—
“সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সেখানে একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুষ-বাণিজ্য চলতে পারে?”