নিজস্ব প্রতিবেদক:
তালা ইসলামকাটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঝাড়ুদার মোকাম সরদারকে ঘিরে ওঠা কোটিপতি হওয়ার অভিযোগ এখন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। প্রথম পর্ব প্রকাশের পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এখন আরও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন আলোচনা স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মোকাম সরদার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। প্রায় ১৭ বছর ধরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের নেতাদের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনেকের মতে, এই রাজনৈতিক যোগাযোগই তার সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান শক্ত করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্নএলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, একজন সাধারণ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর আয়ে যে জীবনযাত্রা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত জীবনযাপন করতে দেখা যাচ্ছে মোকাম সরদারকে। তার নামে-বেনামে জমি, বাড়ি ও ব্যবসায়িক সম্পদের বিস্তার রয়েছে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, “এক সময়ের সাধারণ চাকরিজীবী এখন হঠাৎ করেই আর্থিকভাবে অনেক শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছেন—এটা স্বাভাবিক আয়ে সম্ভব নয়।”অফিসকেন্দ্রিক অনিয়মের অভিযোগআরও অভিযোগ উঠেছে যে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে কিছু অনিয়ম ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের বিষয় থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।সরকারি দফতরের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়াতে পারে।তদন্তের দাবি জোরদার এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি শুধু গুজব বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে না দেখে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।তাদের মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর আয় ও সম্পদের মধ্যে অস্বাভাবিক অমিল থাকলে তা যাচাই করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।বক্তব্য পাওয়া যায়নিঅভিযুক্ত মোকাম সরদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
উপসংহারমোকাম সরদারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন স্থানীয় পর্যায় থেকে ছড়িয়ে বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আরও তথ্য সামনে আসার পর জনগণের কৌতূহল ও তদন্তের দাবি আরও বেড়েছে। এখন নজর প্রশাসনের দিকেই—তারা বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে, সেটিই দেখার বিষয়।