তালা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
তালায় খাস জমি অবৈধ ভাবে দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টির নেতা রিফিউজি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।একটি ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই মাপজরিপ করেন তালা ভুমি অফিসের নায়েব ও সরকারি সর্ভেয়ার।মাপজরিপ শেষে তারা জানান পাকা রাস্তা থেকে জলিলের বাড়ির পুর্ব পাশে উত্তর থেকে দক্ষিনে ৭০ ফুট এবং পশ্চিম পাশে উত্তর থেকে দক্ষিনে ৩০ ফুট সম্পুর্ন খাস জায়গা দখল করে পাকা ঘর বাড়ি নির্মাণ করেছেন।তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলেও জানান।
জানায়ায়,পানি নিস্কাসনের জন্য সরকারি ভাবে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলে প্রথম থেকেই নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী খাস জাযগা দিয়ে ড্রেন নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছিল।কিন্তু অবৈধ দখলদার টাকার জোরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি এক নেতার ছত্রছায়ায় তার অবৈধ দখল করে বাড়ীঘর ঠিক রেখে ড্রেনটি রাস্তার হেজিং বরাবার করছিল।এর আগে নাগরিক কমিটি সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে পূর্বে যে জায়গা দিয়ে ড্রেন ছিল সেই জায়গা দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।জেলা প্রশাসক মাপজরিপ পূর্বক খাস জায়গা নির্ধারন করে ড্রেন নির্মাণ করার জন্য ইউএনও মহাদয়কে নির্দেশ প্রদান করেন।নারগিক কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মাপজরিপের নির্দেশ দিলে আব্দুল জলিল বাদি হয়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও,এবং নাগরিক কমিটির নামে কোর্টে মামলা করেন।বর্তমানে মামলাটি চলমান।এদিকে মামলা করা পর মাপজরিপ না করে বিএনপির নেতাদের সন্তষ্ট করতে ড্রেন নির্মাণের নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসন ।এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে সরকারি জমি না থাকায় এই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবী ড্রেন ছিল রাস্তা ছাড়া ২০ ফুট দুরে সরকারি জমির উপর দিয়ে। যেটি অবৈধ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছে এই জলিল রিফিউজি।জলিল তালা হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে আশ্রিত মৃত আনার আলী রিফুজির ছেলে। জমি জবর দখল ছাড়াও সে ভুয়া উকিল সেজে তালা সেটেলমেন্ট অফিস থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত হওয়ায় ভারত অঞ্চল থেকে অনেক ভুমিহীন উদবাস্তরা তৎকালন পাকিস্তানে পাড়ি জমায়।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ সকল উদবাস্তদের থাকার জন্য তৎকালীন সরকার একটি করে রিফুজী কলোনী তৈরি করেন। তার একটি কলোনী বতর্মান তালা উপজেলা সদরে সরকারি গালর্স স্কুলের দক্ষিন পাশে নির্মিত হয়। সেই নির্মিত কলোনীতে অনেক গুলো পরিবার বসবস করতো। তার মধ্যে মোহাম্মদ মুটি গং, আনার রিফুজী গংরাও বসবাস করতো। এই আনার রিফুজীর বংশোধর হলো আজ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এক পর্যায় তালা ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় বসবাস শুরু করেন। তয়েজ উদ্দীন সাহেব তৎকালীন ইউপি সদস্য মীর আব্দুল মালেক (ছুটো) কে এই আনার রিফুজীকে থাকার জায়গা দিতে বলেন । তখন ইউপি সদস্য মীর আব্দুল মালেক (ছুটো)য ইউপি চেয়ারম্যান কে জানান তালা উপ শহরের ৩ টি ভ্রাম্যমান লাশ বর্তমান হাসপাতালের দক্ষিন পাশে দাফন করা এবং কাঠের তৈরি একটিঁ দোকানও আছে ওখানেই স্বল্প পরিসরে খাস জায়গা আছে সেখানেই তাদের জায়গা দেওয়া যাবে। সেই থেকে আনার রিফিউজীর পরিবার ঐ জায়গাতে বসবাস করে আসছে। যেখানে মাটি খুড়লে এখনো ৩ টি লাশের কংকাল পাওয়া যেতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারনা করছেন। সেই অল্প একটু খাস জায়গায় থাকা আনার রিফিজির পরিবার অবৈধ ভাবে কবর সহ সমস্ত খাস জায়গা ধখল করে বাড়ি নির্মান করেছে।
তালা উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম জানান, আব্দুল জলিল যে জায়গাটিতে বসবাস করে সেটির মধ্যে খাস জমি আছে এবং ঐ খাস জমিতে ৩ টি কবরও আছে। আগের দিনে পানি সরবরাহের জন্য যে ড্রেনটি ছিল সেটি জলিলের বাড়ির ভিতর দিয়ে ছিল। সেটি সে দখল করেছে।এখন রাস্তার উপর দিয়ে ড্রেন হবে এইটা মানা সম্ভব না। তাছাড়া বিগত দিনে উপজেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারি জায়গা উচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক মহোদ্বয় সহকারী কমিশনার ভুমি বরাবর মাপ-জরিপের লিখিত নির্দেশ দিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার মাপ জরিপের দিনধায্য করে তালা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক উপস্থিত থাকার জন্য একটি লিখিত চিঠি প্রেরণ করে ছিল। তারপর আর কোন মাপ- জরিপ না করেই ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসকে অবহিত করলে শুক্রবার তিনি মাপজরিপ করবেন বলে জানান।জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাপজরিপ সম্পান্ন হওয়ায় তিনি জেলা প্রশাসক ধন্যবাদ জানান।সাথে সাথে দ্রুত খাস জায়গা উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়ার দাবী জানান।তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোঃ রাসেল বলেন, এডিবির উন্নয়ন মুলক কাজের জন্য এই ড্রেনটি করা হচ্ছে। যেহেতু অর্থ বছর শেষ। কাজটি না করলে টাকা ফেরৎ যাবে ঠিকাদার বিপদে পড়বে।তাই ড্রেনটি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাস্তা ছাড়া ১০ ফুট দুরে স্থাপনার প্রশ্মের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কাজে ১০ ফুটের কোন প্রয়োজন নেই। তবে ড্রেনটি উচু না করে রাস্তা বরাবর করতে বলেছি।সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাপজরিপ সম্পান হওয়ায় এলাকাবসী জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত খাস জায়গা উদ্ধারের আহবান জানান।