ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার গাংনটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সচিব শ্যাম সুন্দর মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা যায়, সাবেক ইউপি সচিব শ্যাম সুন্দর মন্ডল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন, সুবিধাভোগী তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবা প্রদানের নামে হয়রানি করে অর্থ আদায় করেছেন। এসব অনিয়মের কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হলেও প্রভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত স্বৈরাচারী প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় সাবেক ইউপি সচিব শ্যাম সুন্দর মন্ডল অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক বনে যান। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে বর্তমান সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করে এলাকাবাসী জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধ টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক বাসিন্দা জানান, শ্যাম সুন্দর মন্ডলের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠলেও তার প্রভাবশালী অবস্থান ও প্রশাসনিক সংযোগের কারণে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির তথ্য উঠে এলেও এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। সচেতন মহলের মতে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে জনস্বার্থ রক্ষা পাবে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক ইউপি সচিব শ্যাম সুন্দর মন্ডলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।