নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের সাম্প্রতিক বদলিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, জেলার ১৭ জন ইউপি সচিবের বদলি প্রক্রিয়ায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযোগে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা আসগর হোসেন ও রাজিবের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, যেসব সচিব মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে সক্ষম হয়েছেন, তারা নিজেদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলির সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, যারা অর্থ দিতে পারেননি, তাদের অনেককে দূরবর্তী বা অপেক্ষাকৃত কম সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বদলি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই দপ্তরে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে সচিবদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, যদি বদলি প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তা সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে।সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগীদের একাংশ এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আসগর হোসেন ও রাজিবের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।