বিশেষ প্রতিনিধি: মো. শুকুর আলী | সাভার, ঢাকাসাভার উপজেলার বাকুত্তা মুগদা কান্দা এলাকায় লাইসেন্সবিহীনভাবে গড়ে ওঠা প্রায় দশটি টায়ার কারখানায় টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার জনজীবন ও পরিবেশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন টায়ার পোড়ানোর ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য, ফসলি জমি, গাছপালা এবং গৃহপালিত পশু-পাখির ওপর। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
এলাকায় বসবাসরত কৃষকরা জানান, ধোঁয়ার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, গরু-ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভয়ের কারণে অনেক এলাকাবাসী প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের দাবি, কারখানার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কথা বললে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত কারখানার মালিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জোর দাবি—অবিলম্বে এসব লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ টায়ার কারখানা বন্ধ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা হোক।এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,“বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। তবে এখন যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার এলাকায় কোনো অবৈধ কারখানা থাকতে পারবে না—বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব।”পরিবেশবাদীদের মতে, টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম। যথাযথ অনুমোদন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং অবৈধ টায়ার কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে আদৌ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না।