
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা:
সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কে মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি, অশালীন ভাষায় কথা বলা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে খর্নিয়া হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআয় মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি দৈনিক সোনার বাংলাদেশ-এ “সাতক্ষীরা–খুলনা মহাসড়কে মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মহাসড়কে যানবাহন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই সাংবাদিক আল আমিন সরদার-এর হোয়াটসঅ্যাপে একটি নম্বর থেকে একাধিক বার্তা আসে বলে তিনি দাবি করেন। ওই নম্বরটি সরকারি কাজে ব্যবহৃত বলে দাবি করা হলেও নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী কে—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক।
হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় কী ছিল
সাংবাদিক আল আমিন সরদারের দেওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অপর পক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে—
“আমি আপনার নামে এজাহার করছি।”
“চাঁদা দাবি করেন।”
“পালাতক থেকে আর কি করবেন?”
“আপনি চুদান আমি দেখি।”
“এর থেকে ভালো ব্যবহার আপনি ডিজার্ভ করেন।”
এসব বার্তার জবাবে সাংবাদিক আল আমিন সরদার লিখেছেন—
“মুখের ভাষা ঠিক করেন ভাই।”
“আপনার মতো বেটা আমার চাঁদা দেবে—পাগলামি করেন।”
“খোঁজ নিয়ে কথা বলা উচিত।”
অভিযোগকারী সাংবাদিকের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পরপরই এ ধরনের বার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত কথোপকথন নয়; বরং সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা হতে পারে।
সাংবাদিকের বক্তব্য
সাংবাদিক আল আমিন সরদার বলেন, “আমি যে তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সংবাদ প্রকাশের প্রশ্নই আসে না। সংবাদ প্রকাশের পর হোয়াটসঅ্যাপে যেভাবে কথা বলা হয়েছে এবং মামলা করার কথা বলা হয়েছে, তাতে আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভুল থাকে, তাহলে আইনগত বা পেশাগতভাবে তার প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু হুমকি বা অশালীন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের পুরো কথোপকথনের স্ক্রিনশট তিনি সংরক্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করবেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি কার, সেটি সত্যিই এসআই মেহেদী হাসানের ব্যবহৃত কি না, সংবাদ প্রকাশের পর কেন সাংবাদিককে এমন বার্তা পাঠানো হলো এবং সেখানে এজাহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ কেন তোলা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশটের পাশাপাশি নম্বরের ব্যবহারকারী, বার্তার সময়, কললগ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা পেশাগত স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে অভিযোগটি সত্য কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি বিভাগীয়ভাবে যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি সাংবাদিকের পক্ষ থেকেও যদি কোনো আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটিও প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।