স্টাফ রিপোর্টার :
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার–এর বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়ম, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন এবং কাজের মানে ব্যাপক ঘাটতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, খুলনা অঞ্চলের নদী খনন, বাঁধ সংস্কার ও পানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। অভিযোগ রয়েছে—কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা জনস্বার্থ ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে বারবার কাজ পাইয়ে দিতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, কাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট হারে ‘কমিশন’ দিতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রমাণিত হয়নি।কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বাঁধ ভেঙে যাওয়া, স্লুইসগেট অকার্যকর হয়ে পড়া এবং নদী খননের গভীরতা না বাড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভাঙনের আশঙ্কা বেড়েছে। দুর্নীতি দমন সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবি সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, বিষয়টি তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি, যাতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার–এর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দিতে চাইলে তা পরবর্তী পর্বে হুবহু প্রকাশ করা হবে।
চলবে… (অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | পর্ব–২)
পরবর্তী পর্বে উঠে আসবে—নির্দিষ্ট প্রকল্পের তথ্য, সম্ভাব্য আর্থিক গরমিল ও নথিপত্রভিত্তিক অনুসন্ধান।