অনুসন্ধানী প্রতিবেদক আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদকে ঘিরে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে নথিপত্র ও ডিজিটাল তথ্য রয়েছে। দৈনিক যশোর বার্তা নিউজ প্রকাশের পর নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা দর ঝাপ শুরু করেছেন।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড, কল ডিটেইলস, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং কিছু ভিডিও উপাদান সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এসব তথ্য যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদ অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
রাজনৈতিক ও ছাত্ররাজনীতির সম্পৃক্ততার অভিযোগস্থানীয় অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এএসআই হাসান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগটি এলাকায় প্রচলিত থাকলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ হয়নি।এএসআই হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি কোনো রাজনৈতিক বা ছাত্ররাজনীতির সক্রিয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এসব অভিযোগ আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।”
সম্পদ ও প্রভাবের প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদের নামে উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য রয়েছে। তবে সম্পদের উৎস ও বৈধতা নিয়ে আনুষ্ঠিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদ-এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। সংশ্লিষ্ট নথি, ডিজিটাল প্রমাণ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করলে এএসআই হাসান ও কনস্টেবল আসাদ-এর কার্যকলাপের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।