কেপ ভার্দের হয়ে যখন তিনি প্রথমবার মাঠে নামলেন, বিশ্বফুটবল তাঁর নামই জানত না। অথচ আজ ফুটবল দুনিয়া এমন এক চরিত্রের প্রেমে পড়েছে, যিনি টুর্নামেন্টে নিজের দলের ভাগ্য যাই হোক না কেন, ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা লোকগাথা হয়ে গেছেন।ফুটবলপ্রেমীরা আদর করে তাঁকে ডাকছেন ‘লিটল গ্র্যান্ডমা’! আর এই ‘নানী’ আর কেউ নন, তিনি কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভোজিনহা। ব্রাজিলের সাবেক তারকা জোসিমারের নামানুসারে আসল নাম জোসিমার রাখা হলেও, এই বুড়ো বয়সে এসে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে স্পেনের বিশ্বখ্যাত আক্রমণভাগকে একাই রুখে দিয়ে (০-০ ড্র) রাতারাতি বিশ্বমঞ্চের লাইমলাইটে চলে এসেছেন তিনি।স্পেনের বিরুদ্ধে সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও যেন সুনামি বয়ে গেছে। বিশ্বকাপে নামার আগে ইনস্টাগ্রামে যাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার, সেই বুড়ো ভোজিনহার ফলোয়ার সংখ্যা এখন রকেট গতিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে!
তবে মাঠের এই আকাশচুম্বী সাফল্য আর খ্যাতির আলো মোটেও অন্ধ করতে পারছে না এই সরল মানুষটিকে। কেপ ভার্দের ক্লাব ‘স্পোর্ট ক্লাব আফ্রিকা শো’-তে খেলা তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু টনি সিলভা ভোজিনহার এই মাটির মানুষ হওয়ার গল্প শুনিয়ে বলেন, বিশ্বকাপে ও খেলছে, এটা আমাদের জন্য একটা স্বপ্নের মতো। ও এক্কেরে গরিব ঘর থেকে উঠে আসা ভীষণ বিনয়ী একটা ছেলে। এখনও পায়ে হাওয়াই চটি আর সাধারণ টি-শার্ট-শর্টস পরে বাচ্চাদের সাথে ধুলোমাটির মাঠে ফুটবল খেলে বেড়ায়। ওর কোনো অহংকার নেই। ২০১১ সালে লোকাল ক্লাব মিন্ডেলেন্সের হয়ে ভোজিনহার সাথে ট্রফি জেতা রাইট-ব্যাক নুনো পিরেসও সুর মিলিয়ে বলেন, ম্যাচ যত বড়ই হোক, ও সবসময় কুল আর রিল্যাক্সড থাকে। স্পেনের মতো বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে যখন ও মাঠে নামল, আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল