1. admin@dailyksonarbangladesh.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন শফিক- সভাপতি, লিটন- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নড়াইলের লোহাগড়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নড়াইলে মাদকদ্রব্যসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক শ্যামনগরে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি বহু পুরুষের সাথে ‎শারিরীক মেলামেশায় জরায়ু অপরেশন নায়েব শর্মিষ্ঠার ‎* জরায়ু কাটাহলেও থেমে নেই অবাধ মেলামেশা । ‎* ডজন খানেক প্রেমের সত্যতা মিলেছে। * স্বামী অক্ষম হওয়ায় তরুণ যুবক তার্গেট নিজের নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকের নামে মামলা? মীর শাহীনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসা ও পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তালা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক হাফিজুর রহমান সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

কালীগঞ্জে এলজিইডির ঘুষের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়, হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ বরখাস্ত

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক;প্রত্যয়ন পত্রের জন্য দৌড়ঝাপ, সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করেও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন গত ২৭/৪/২৬ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৪৬.০২.০০০০.০০৭.২৭.০২৪.২৫.৩৯৯০ নং স্মারকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা দায়ের জন্য ১০ কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে জনাব মোস্তাফিজুর রহমান আপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রকাশ্যে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায় আপনি অফিসের দাপ্তরিক টেবিলে বসে দু,জন ব্যক্তির নিকট থেকে গুনে গুনে অর্থ নিচ্ছেন। সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন অর্থ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন হলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। যেহেতু আপনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধিতে বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতি পরায়ণতার দায়ে অভিযুক্ত করা হলো এবং উক্ত অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ১২(১) বিধি অনুযায়ী আপনাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত কালীন সময়ে বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। উক্ত অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৪(৩)(ঘ) বিধি অনুযায়ী কেন আপনাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে না অথবা একই বিধিমালার অধীনে অন্য কোন শাস্তি প্রদান করা হবে না তার ব্যাখ্যা সহ আপনার লিখিত জবাব পত্র ,অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রাপ্তির ১০ কার্য দিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অন্যথায় বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।
স্থানীয় সরকার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের ঘুষ কেলেঙ্কারি ঠেকাতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ সহ প্রকৌশলী , হিসাব রক্ষক ঘুষ প্রদানকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেও শেষ রক্ষা হলো না। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের (এলজিইডি) আলোচিত হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত ঠেকাতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ সহ নারি কেলেঙ্কারির মত গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও নিজের ঘুষ কান্ড ঠেকাতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সচিবদের নিকট থেকে প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ করতে দেখা গেছে দিনের পর দিন। এর মধ্যে চাম্পাফুল ও মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সচিবদের নিকট থেকে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ভাঙ্গানো সহ পরবর্তীতে দু,জনে মিলে প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সচিবদের বাড়িতে ধর্না ধরতে দেখা গেছে। তবে এর মধ্যে প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (প্রশাসন) পক্ষে গত ২৩/৪/২৬ ইং তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ৪৬.০২.০০০.০০১.১২০০৯.২৬.৩৭৭৩ নং স্মারকে মেহেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলামকে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে বদলি করা হলেও দুর্নীতিবাজ মহা ঘুষখোর মোস্তাফিজ তার বদলী ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে জোর তদ্বির শুরু করে। হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে ঘুষ কান্ডের ভিডিও , বিভিন্ন পত্র ,পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে খবর ভাইরালের পর গত ২০/৫/২৬ ইং তারিখে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট থেকে সুপারিশকৃত সাতক্ষীরার জেলা সদর, কলারোয়া উপজেলায় বদলির আবেদন পত্র স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) খুলনা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট বদলির আবেদন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৫/৫/২৫ ইং তারিখে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে (এলজিইডি) যোগদান করার পর সে সরকারি কোন বাসায় না থেকে উপজেলা ডরমেটরিতে থাকতো। ওই সময় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (এল সি এস) এক মহিলা কর্মীকে দিয়ে অফিসে ঝাড়ু দেওয়া ,চা বানানো ও ধোয়া মোছার কাজ করানো হতো। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকুরী খাওয়ার ভয় দেখাইয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ঐ এলসিএস কর্মী মহিলা যুবতীকে তার ডরমেটরির রুম পরিষ্কার করানোর জন্য প্রায় প্রতিদিন ফজরের আজানের পরে ভোরে তার রুমে ডেকে নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলে ডরমেটরির রান্নার বুয়াসহ বসবাসকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে ওই মহিলা কর্মীর কর্মকর্তা ও সহযোগীদের মধ্যে জানাজানি হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী ঐ (এল জি এস )মহিলা কর্মীকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন অফিসের একটি গ্রুপ তাকে তাড়ানোর জন্য সব সময় মিথ্যা প্রবাকাণ্ডো ও চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করছে আমি শুনেছি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে অফিসে গিয়ে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অফিসে বসে বিভিন্ন ঠিকাদার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিবদের নিকট থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিলের জন্য প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ও ওপেন সিক্রেট । ঘুষ কান্ডে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে চলছে নানান গুঞ্জন ও কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন প্রশ্ন। তবে হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান যেখানে চাকরি করেছেন ঘুষ কান্ড নিয়ে সেখানে সংবাদ শিরোনামসহ নানান আলোচনায় আলোচিত হয়েছেন। যে কারণে তাকে কোন জেলা, উপজেলার অফিসগুলো গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করতো। হিসাব রক্ষক মোস্তাফিজ অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার এবং ২০ এপ্রিলে বিভিন্ন গণমাধ্যম, টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ফলাও ভাবে প্রচার, প্রকাশিত হলে টনক নড়ে মোস্তাফিজের। ঐ সময় সে তার বিভিন্ন স্বজনদের দ্বারা সুপারিশে ব্যর্থ হয়ে ২২ এপ্রিল তার অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে খুলে অপসারণ করে ফেলে। যাতে করে পরবর্তীতে ঘুষ নেওয়ার কোন প্রমাণ না থাকে। এরপর তার বিরুদ্ধে নানান আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠলে নিজেই বদলি নাটক শুরু করে। এরপর তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভিডিওর সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের নিকট প্রত্যয়নপত্রের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর হাত পা ধরে তাকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ধর্না ধরার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবরা এ প্রতিনিধিকে জানান। চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন সাংবাদিকদের জানান উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ভাঙ্গিয়ে সচিব সাইদুর আমার কাছ থেকে প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মাহমুদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান প্রত্যয়ন নিতে কয়েকবার তার নিকটে গেলেও তিনি স্বাক্ষর করেননি।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
Theme Customized By Shakil IT Park