★অজয়ের নাটকীয়তার রহস্য কি…?
★মেধাভিত্তিক-স্বচ্ছ নিয়োগের বিপরীতে অজয়
★নিরপেক্ষ পরীক্ষায় অজয়ের ধুয়াশা কেন..?
★অজয়ের অসুস্থতার নাটকের সমাপ্তি কোথায়
★বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছে অজয়
★নিরুপায় মধুসূদন ও তাপসী বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ থেকেঃ
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর প্রাণ কৃষ্ণ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডলের অসুস্থতার নাটক ও সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকার এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্য সমীর কুমারের চক্রান্তে যোগদান করতে না পারায় চাকুরী প্রার্থীরা সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরও চাকরিতে যোগদান করতে না পেরে চাকুরী প্রার্থী ভুক্তভোগী শ্যামনগর থানার পূর্ব দুর্গা বাটি গ্রামের কৃষ্ণপদ মন্ডলের পুত্র মধুসূদন মন্ডল কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে এবং কালিগঞ্জ থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের বিশ্বজিৎ সরদারের কন্যা তাপসী সরদার আয়া পদে চাকরি প্রার্থী হিসেবে বাদী হয়ে অত্র স্কুলের সভাপতি দেবদাস মন্ডল প্রধান শিক্ষক অজয় মণ্ডলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১৯ মে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতের কালিগঞ্জ থানা বিজ্ঞ সিনিয়ার সহকারি জজ আদালতে( দেওয়ানী ১৬৫/ ২৪) একটি মামলা দায়ের করেছে। এর আগেও একই আদালতে নিয়োগ বাণিজ্য না করতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধা গ্রস্ত করতে নিয়োগ বাতলের আবেদন জানিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য সমীর মন্ডল বাদী হয়ে( দেওয়ানী ১১৯/ ২৪) একটি মামলা দায়ের করে। বর্তমান মামলা ২ টি অত্র আদালতের বিচারাধীন আছে।
প্রসঙ্গতঃ কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর প্রাণকৃষ্ণ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারের সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এম.পিও নীতিমালা ২০২১ প্রবিধান অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর ২০২৩ খ্রি: তারিখে “দৈনিক পত্রদূত” ও “দৈনিক জনকন্ঠ” পত্রিকার মাধ্যমে উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন স্কুল কতৃপক্ষ।২৪ জানুয়ারি
২০২৪ খ্রি: তারিখে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার মন্ডল স্বাক্ষরিত পত্রে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য আহবান জানানো হয়।সরকারের সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এম.পিও নীতিমালা ২০২১ প্রবিধান চলমান কার্যক্রমের সাথে ১০ জানুয়ারি পরিপত্রের মাধ্যমে অনুসরণীয় নির্দেশমালা ও ২১ জানুয়ারি মা উশি মহাপরিচালক এর পরিপত্র মেনে চলতে বলা হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি কতৃক যাচাই-বাছাই শেষে পত্র পেয়ে ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ খ্রি: তারিখে নিয়োগ বোর্ডের লিখিত, মৌখিক, ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে ১০ জানুয়ারী অনুসরণীয় নির্দেশমালা ও ২১ শে জানুয়ারী মাউশি মহা পরিচালকের পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ পূর্বক নিয়োগ পরীক্ষায় “কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর” পদে মেধা তালিকায় মধুসূদন মন্ডল ১ম স্হান অধিকার এবং আয়া পদে তাপসী সরদার ১ম স্হান অধিকার করলে নিয়োগ বোর্ড নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন।ডিজি প্রতিনিধি,জেলা প্রশাসক প্রতিনিধিসহ নিয়োগ বোর্ড সর্বোচ্চ মেধাভিত্তিক,স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষতার সাথে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন বলে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণায় জানান।নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি দেবদাস মন্ডল ও সদস্য সচিব প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডল যৌথভাবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন।দ্রুত নিয়োগ পত্র প্রদান ও যোগদান সম্পন্ন করবেন বলে কিছু নির্দেশনা দেন।নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় মণ্ডল নিয়োগের জন্য সুপারিশ করলেও পরবর্তীতে সুষ্ঠু পরীক্ষা হওয়ায় নিয়োগ-বাণিজ্য করতে না পেরে পত্র স্কুলের সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকার এবং বর্তমান বিদ্যুৎ সদস্য সমীর মন্ডলের কারনে টালবাহানা ও নিয়োগ দিতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাকুরী প্রার্থীদ্বয় ম্যানেজিং কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেও কোন সদুত্তর পায়নি। পরে নিরুপায় হয়ে মধুসূদন মন্ডল ও তাপসী সরদার কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বরাবর প্রতিকারের জন্য আবেদন করেন।আবেদনের অনুলিপি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক,জেলা শিক্ষা অফিসার,যুগ্ম পরিচালক এনএসআই,সহকারী পরিচালক ডিজিএফআই,সাতক্ষীরা ডিএসবি,কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,নিয়োগ কমিটির সভাপতি/সদস্য সচিব বরাবর প্রেরণ করলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে নিয়োগ কার্যক্রম সুসম্পন্ন করার নির্দেশনা ও দায়িত্ব দেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। সেই মোতাবিক কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ১৪ মে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে ১৬মে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরী মত বিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বললেও প্রধান শিক্ষক অজয় মণ্ডল রহস্যজনক কারণে হাজির হননি।কখনও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অসুস্হ্যতার নাটক করছেন,কখনও তিনি কয়রা উপজেলায় আত্মগোপন করছেন,কখনও নিজের বাড়িতে আত্মগোপন করে বলছেন বাড়িতে নেই।বিভিন্ন টালবাহানা করে অজ্ঞাত কারনে প্রশাসনকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইও ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করে আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অস্বাভাবিক আচরণ করছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।জানা যায়,১৬ মে থেকে নিয়োগ বাতিলের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে ভৌতিক কারনে প্রধান শিক্ষক কোন প্রকার ছুটি ছাড়াই নিজেকে আত্মগোপনে পলাতক রেখেছে ।তার মোবাইল নম্বর দুটি সার্বক্ষনিক বন্ধ সহ কারোর সাথে যোগাযোগ নেই,স্কুলের দায়িত্ব কারোর উপর দেননি বলে জানান বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সুবাদে ও উপবৃত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ প্রধান শিক্ষকের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।বিদ্যালয়ের পিওন গণেশ সরদার। হেডস্যার কারোর সাথে যোগাযোগ রাখছেন না,স্কুলে যোগদান করছেন না,দেখাও দিচ্ছেন না।তবে ২৫শে মে শনিবার রাত্রে তাঁর বাড়িতে যেয়ে তাকে সাথে নিয়ে স্কুলে যান,স্কুলের পরীক্ষার খাতা ও কিছু নথি নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। তারপর থেকে তাকে আর দেখা যাচ্ছে না।বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেবদাস মন্ডল অভিযোগ করে জানান ,স্কুলে যোগদান না করার কারনে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিলম্ব হচ্ছে।সভাপতির সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখছেন না,ফোন করলে ধরেন না।কারন হিসেবে তিনি জানান,স্কুলের দুটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম গড়িমসি করতেই তিনি এহেন রহস্যজনক ভৌতিক,ন্যাক্কারজনক ও খামখেয়ালি আচরণ করে চলেছে নিয়োগ ঠেকাতে ।বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি,জেলা ও উপজেলা প্রশাসন,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী,এমনকি মাননীয় সংসদ সদস্য সহ কারোর তিনি তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রী ও কমিটির সদস্যরা জানান।
বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য এস এম আতাউল হক দোলন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্হানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি স্হানীয়ভাবে মীমাংসা করার নির্দেশ দিলে তিনিও মীমাংসা করেননি।স্হানীয় সংসদ সদস্য প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা যায়।এর আগে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় দীপংকর দাশ দিপু স্হানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে এবং পরবর্তীতে একাধিকবার জানিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য নির্দেশনা দিলেও তিনি কোন উদ্দ্যোগ নেননি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় কয়েকজন জানান,”বিদ্যালয়ের সর্বশেষ দুটি নিয়োগে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ১৬ লক্ষ টাকায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে আশিক মাহমুদ এবং ১২ লক্ষ টাকায় আয়া পদে মৌমিতা সরদারের পাতানো নিয়োগে ব্যর্থ হওয়ায় স্হানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম,বিদ্যুৎসাহী সদস্য সমীর মন্ডল,সাবেক সভাপতি মনিরামপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত সরদার,টিআর শিক্ষক কল্যান সরকার পারস্পরিক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।এই ৪ জন উভয়ই পারস্পরিক প্রভাব সৃষ্টি করে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে চলেছেন ।স্হানীয়রা আরো জানান,”নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ২ টি গ্রুপ সৃষ্টি হলেও তারা সকলেই একটি গ্রুপে মিলেমিশে ছিলো।উক্ত নিয়োগটি স্বচ্ছ,মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ হওয়ার কারনে তাদের পাতানো নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ দুটো ভাগে বিরক্ত হয়ে পড়েছে।এদিকে প্রধান শিক্ষক নিজেই ১৩ লক্ষ টাকায় আরেক প্রাপ্তি সুমন সরদারকে নিতে ব্যার্থ হওয়ায় বিভিন্ন নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেই চলেছেন। বিদ্যুৎসাহী সদস্য সমীর মন্ডল নিয়োগে সুপারিশ প্রাপ্ত প্রার্থীদের কাছে ১০ লক্ষ ও ৭ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবি করেন,।টাকা দিলে মামলা তুলে নিবে,টাকা না দিলে মামলা তুলবেন নানিয়োগ বাতিলের,ঝামেলা সৃষ্টি করবেন বলে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।বর্তমান সভাপতি দেবদাস মন্ডল তার কথামতো না চলায় সাবেক সভাপতি ভারতীয় নাগরিক সুব্রত সরদারও মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করছেন প্রতিনিয়ত।টাকা দিলে নিয়োগ করাবেন,টাকা না দিলে সাতক্ষীরার এক তদবির বাজ গুরুর ভয় দেখান।,কখনও শিক্ষা বোর্ডের ভয় দেখান,কখনও সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতের ভয় দেখান।বিভিন্নভাবে সে ভয় দেখিয়ে হয়রানি করছেন।সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকার রাতারাতি বিষ্ণুপুর এলাকায় গিয়ে জয়পত্রকাঠী জৈনিক ব্যাক্তির বাড়িতে সন্ধ্যায় প্রবেশ করে ভোরে মনিরামপুর চলে যান।জনমনে এ বিষয়ে ভীতিকর পরিবেশ ও আতংক সৃষ্টি হচ্ছে।জানা যায়। সুব্রত সরদারের ভারত বাংলাদেশ অবৈধ হুন্ডির ব্যবসা রয়েছে।সে ভারতের গোবর ডাঙার নাগরিক,আবার বাংলাদেশের মনিরামপুর কলেজের শিক্ষক।স্ত্রী শিউলি সরকার,পুত্র সুনেন্দু সরদারসহ পুরো পরিবার ভারতের গোবর ডাঙ্গা বাওড় এলাকার কালি মন্দির সংগঠনী ক্লাবের পাশে কোজ ডাক্তারের বাড়ির পাশে দুইতলা বাড়ি করেছেন।বাংলাদেশের সকল স্হাবর অস্হাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অবৈধভাবে ভারতে হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে টাকা পাচার করেছেন।সুব্রত সরদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উক্ত নিয়োগ বাণিজ্য থেকে প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার মন্ডলকে ঋণের ১০ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করাবেন,বিনিময়ে তাকে কিছু টাকা দিতে হবে।এছাড়া সুব্রত সরদার আইন বহিঃভূতভাবে প্রতিনিয়ত তার কলেজ ফাঁকি দিয়ে ছুটি ছাড়াই মাসের পর মাস ভারতে থাকেন।যেগুলো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।অনুসন্ধানে জানা যায়,অজয় কুমার মন্ডলের স্ত্রী কামিনী মন্ডল তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে বিয়ে করে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঘর করছেন। পুত্র অভিজিত মন্ডল ভারতের পশ্চিম বাংলার নদীয়া জেলার বানাঘাঁট মহাকুমার গাংনাপুর এলাকায় প্রধান শিক্ষকের নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন।বর্তমানে শ্বশুর বাড়িতে শ্বাশুড়িকে সাথে নিয়ে থাকেন প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডল। শ্বশুর এ বিষয়ে সন্ধিহান হয়ে অনত্র চলে যান।প্রধান শিক্ষক অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকারের যোগসাযোগে অদ্যাবধি নিয়োগ বাণিজ্য সহ প্রায় ৪০/৪২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে।এদেশে তার ব্যাংকে কোন টাকা নেই,এমনকি তার বেতন রুপালী ব্যাংক নলতা,কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা শাখা উত্তোলন করে।কিন্তু উক্ত শাখায় তার নামে ৮ লক্ষ টাকা ঋণ উত্তোলন করা আছে বলে ব্যঙ্গ কর্তৃপক্ষ এ প্রতিনিধি কে জানান ।উক্ত ঋণের জন্য বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক কল্যান সরকার জামিনদার আছে,সে সব জানে।স্কুলের ক্রীড়া ও টিআর শিক্ষক কল্যান সরকার আক্ষেপ করে জানান,”সাবেক সভাপতি সুব্রত সরদার আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাওলাত নিয়েছে ১ বছর হলেও এখনও পরিশোধ করেনি।হেডস্যার ৫০ হাজার টাকা হাওলাত নিয়েছে,নলতা রুপালী ব্যাংকে তাঁর ৮ লক্ষ টাকার জামিনদার আমি,তাছাড়া আমার নিয়োগও করেছিলো।এটা অন্যায় জেনেও তাদের পক্ষ নিয়ে আমি তাদের কথা না শুনলে আমার পাওনা ২ লক্ষ টাকা ফেরত পাবোনা”।
অনুসন্ধানে জানা যায়,ব্যাংক ঋণের টাকাসহ এসমস্ত টাকা পাচার করে সে ভারতে জায়গা কিনে সেখানে বাড়ি করেছে বলে নাম না প্রকাশ করা সত্বে তার প্রতিবেশী একাধিক ব্যক্তি জানান ।বিদ্যালয়ের আয় ব্যায় এর হিসাব রশিদ না থাকায় বিদ্যালয়ের টাকা দূর্ণীতির উপায়ে আর্থিক তচ্ছরুপের সাথে জড়িত।সুব্রত সরদার ও অজয় মন্ডল উভয়ই দেশের সম্পদ বিক্রি করে চোরাই পথে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঁচার করে যা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ।তাদের চাকুরী কয়েকবছর পর অবসর হলেই পেনশনের মোটা অংকের টাকা নিয়েই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাবে।বর্তমানে বিষ্ণুপুর স্কুলের নিয়োগ বাণিজ্য করতে উন্নয়ন ও পরিবেশ নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।যা এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণার ঝড় তুলেছে।
বর্তমান সভাপতি খুলনা সফুরুন্নেসা মহিলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল দেবদাস মন্ডলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগদান করছেন না,যোগাযোগ করছেন না,তিনি সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে কোন ছুটি অনুমোদন করেননি,ভৌতিক কারনে সে স্কুল পলাতক রয়েছে।বিদ্যালয়ের দুটি নিয়োগ নিয়ে আমি প্রশাসনিক চাপে আছি,প্রধান শিক্ষকের গড়িমসি আর অসহযোগিতায় দুটি চাকুরীপ্রার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা মোটেও কাম্য নয়।তারা মেধায় চাকুরী পেয়েছে,তাদের নিয়োগ দিয়ে যোগদান করাতে হবে।তাছাড়া তাদের চাকুরীর বয়সসীমা শেষ।আমার নীতি,নৈতিকতা ও দায়িত্ব রয়েছে।এভাবে চলতে থাকলে আমাকে হয়তো প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে”।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেবদাস মন্ডলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ নিয়োগ সুপারিশ প্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগ ও যোগদান করাতে চান।এছাড়া অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অজয় মন্ডল,সমীর মন্ডল ও সুব্রত সরদারের চক্রান্তের হাত থেকে প্রতিষ্ঠান টিকে বাঁচানোর দাবি জানান।