কালিগঞ্জে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত এক শিক্ষিকার বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ অধ্যক্ষ হেলালির বিরুদ্ধে- দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
আপডেট সময় :
শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩
১৫৪
বার পঠিত
হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ থেকে: মর্জিয়ানা খাতুন নামে এক সহকারি মৌলভী শিক্ষিকা চাকুরী করবে না বলে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর মাদ্রাসায় আসে না। ঐ শিক্ষিকার স্বামী গোপালগঞ্জ জেলায় এক মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরির সুবাদে স্বামীর সঙ্গে সেখানে বসবাস করেন। অথচ মাসের পর মাস ঐ শিক্ষিকার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দারুল উলুম চৌহমুনী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হত্যা সহ ৮ টি সহিংস মামলার আসামি জামায়াত নেতা আব্দুল কাদির হেলালীর বিরুদ্ধে। অত্র মাদ্রাসায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে তার অগোচরে প্রতিমাসে বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ওই মাদ্রাসার হিসাব সহকারী আবু বকর সিদ্দিক এবং অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের হেলালির পরস্পর সহযোগিতায় এই অপকর্ম চালিয়ে গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছুই জানেন না। ওই মাদ্রাসার দাতা সদস্য আবু তালেব সরদারের অভিযোগ এবং সরে জমিনে গত ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে সরেজমিনে এলাকায় গেলে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। অত্র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, আমজাদ হোসেন, মিজানুর রহমান, নুরুল আমিন এর নিকট জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের জানান শিক্ষিকা মর্জিয়ানা প্রায় বছর খানেক হলো মাদ্রাসায় আসেন না। এমনি মাঝে মাঝে বেড়াতে আসেন তবে তার বেতন বিলে কে স্বাক্ষর করে এবং কিভাবে বিল উঠলো সে ব্যাপারে অফিস সহকারী আবু বক্কর এবং অধ্যক্ষ ভালো বলতে পারবেন। ওনারা বিল তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট নিয়ে গেলে তিনি স্বাক্ষর করলে আমরা টাকা পাই এতটুকু বলতে পারব।
তবে ঐ শিক্ষিকার পরিবর্তে বন্দকাটি গ্রামের আকবর আলি মোড়লের পুত্র অলিউল্লাহ ক্লাস নেয় এতোটুকু বলতে পারি। এ ব্যাপারে অলিউল্লার নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান ওই শিক্ষিকা মাদ্রাসা থেকে লিখিত রিজাইন দিয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। যে কারণে ওই পদে আমাকে চাকরির আশ্বাসে আমি ক্লাস নেই এবং আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয় এবং প্রাইভেট পড়াইয়া কিছু টাকা পাই। বেকার মানুষ চাকরির জন্য চেষ্টা চালাইতেছি। শিক্ষিকা মর্জিয়ানার স্বামীর নিকট মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি বন্দকাটি মাদ্রাসা হতে চলে এসেছি আপনার ভাবিকেও নিয়ে এখন গোপালগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরি করছি। এ কারণে আর চাকরি না করিয়ে পাশে রেখেছি।কেন কি হয়েছেভাই? আবার আপনারা এ বিষয়ে লেখালেখি করিয়েন না। আমার স্ত্রীর মাসে মাসে কিছু দেয় অধ্যক্ষ। শিক্ষিকা মর্জিয়ানের নিকট জানতে চাইলে সে জানায় আমি মাঝে মধ্যে যাই তবে হজের ছুটির জন্য একটি দরখাস্ত দিয়ে আসছিলাম। বেতন ভাতা বিলে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির হেলালির নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তেলে বেগুনি জ্বলে ওঠে। কে আপনাদের পাঠিয়েছে এখানে, কেন জানবেন? কেন শুনবেন? নানান প্রশ্নে সাংবাদিকদের জর্জরিত করে। তিনি কোন প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নয় বলে সাংবাদিকদের জানান। বেতন ভাতা বিলে প্রতি স্বাক্ষরকারী প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরার নিকট জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তুমি রিসিভ করেননি। অত্র মাদ্রাসার প্রাক্তন সভাপতি ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক সরদার অভিভাবক সদস্য আনোয়ার, সিদ্দিকুর রহমান আশিক, ইউসুফ সহ একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান এর আগেও এই মাদ্রাসার ইফতেদায়ী প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম একটি কোম্পানিতে চাকুরি করার সুবাদে বছরের পর বছর মাদ্রাসায় না আসলেও ঠিকমতো তার বেতন বিলে স্বাক্ষর হওয়ার ঘটনার অভিযোগেরতদন্তে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে পার পেয়ে যায় বলে তারা জানান। তারা সাংবাদিকদের আরও জানান মর্জিয়ানার স্বামী মাহবুবুর রহমান পিরোজপুর থেকে এসে বন্দকাটি আহমদীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় চাকরি করা অবস্থায় তার স্ত্রীকে চৌমুনী মাদ্রাসায় চাকুরি দেয়। তিনি এখন গোপালগঞ্জ চলে যাওয়ায় তার স্ত্রীকেও চাকরি করাবে না বলে সাথে নিয়ে চলে গেছে। এরপর থেকে আর মাদ্রাসায় আসে না তার পরেও প্রতিমাসে উপস্থিত দেখিয়ে চৌমুহনী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামাত নেতা আব্দুল কাদির হেলালি অনুপস্থিত ওই শিক্ষিকার বেতনভাতা প্রতিমাসে উত্তোলন করে আসছে। বিষয়টি রহস্যজনক কিভাবে সম্ভব। অথচ এই বেতন ভাতার বিলে প্রতিমাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন। আমরা বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আমরা এলাকাবাসীর তরফ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।তদন্ত করলে মাদ্রাসার নানান অপকর্ম দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।