শিমুল হোসেন,কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ;সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে অবৈধ বালুর ব্যবসা আর ডাম্পারের দাপটে রাস্তাঘাটের বেহালদশা, জনদুর্ভোগ চরমে। কথিত ব্যবসায়ীরা বললেন সব ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছি। প্রশাসন বলছে অভিযোগ পাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকায় নদী ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চালাচ্ছে দেদারছে। এসব বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ডাম্পার, ট্রোলী আর বাংলা ট্রাক গাড়ির কারণে এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে এবং রাস্তা দিয়ে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা সহ কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু তাদের চলাচলের কোন নিরাপত্তা নেই,এতেকরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।বৃহস্পতিবার বার (১৬ জুলাই-২৫) বেলা ১১টায় এলাকায় চলাচলকারী শত শত পথচারী ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, কালিকাপুর গ্রামের মৃত: মোজাম ঢালীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (হাবিবার), সাত্তার গাজীর ছেলে মো. ইয়াসিন আলী গাজী, আব্দুল মালেক ঢালীর ছেলে আওয়ামী লীগের দোসর বলে পরিচিত আব্দুল মান্নান ঢালী এবং আরেক দোসর মৃত ফজলে গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলাম গাজী, এরা নদী ভরাট করে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দীর্ঘদিন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগেই এই ডাম্পার গাড়ির চাপায় কালিকাপুর এলাকার এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো বিচার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চালাচ্ছি। এটা নিয়ে আপনাদের কী সমস্যা? কিছু করতে চাইলে করেন, আমাদের ব্যবসা আমরা ঠিকই ব্যবসা চালায়ে যাবো।”এ প্রসঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “ বালু উত্তলনের বিষয়টি আমাকে এখনো কেউ সরাসরি জানায়নি বা অভিযোগ করেনি। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বালু ব্যবসার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। তারা বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সেই সাথে অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ শাখা রাস্তাগুলোও ব্যাপক খতিরমুখে পড়েছে। আশু প্রয়োজন অবৈধ বালুর ব্যবসায়ীমহলকে আইনের আওতায় আনা।