নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে। সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সংবাদকর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে—আর কত নির্যাতনের শিকার হলে এই সমাজ সাংবাদিকদের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠবে?
সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, মিথ্যা মামলা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, আবার কোথাও দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় তাদের ওপর নেমে আসছে প্রতিশোধের খড়গ।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে। ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে করে অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের দুঃসাহস তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার জন্ম দিতে পারে।
সাংবাদিকদের দাবি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সেই স্তম্ভ যদি বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সত্য ও ন্যায়ের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও বলছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো সমাজের কণ্ঠরোধ করা। এজন্য সরকার, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে কাজ করে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।একের পর এক নির্যাতনের এই চক্র ভাঙতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেখক:সাংবাদিক আল আমিন সরদার
সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকা