আন্তর্জাতিক ডেস্ক,ইউক্রেনের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণে রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ এবার সীমিত আকারে আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছে। এবার কুচকাওয়াজে সাধারণত প্রদর্শিত ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র থাকবে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৯ মে মস্কোর রেড স্কয়ারে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যা রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়কে স্মরণ করে। এই যুদ্ধে যেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই অংশ ছিল এবং আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।গত কয়েক বছরে এই কুচকাওয়াজে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করা হতো। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই আয়োজনকে ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে জাতীয় সমর্থন জোরদারে ব্যবহার করে আসছেন, যে যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে।তবে এবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হবে না।ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন,কিয়েভ সরকার, যারা প্রতিদিন যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হচ্ছে, তারা এখন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়িয়েছে। তাই ঝুঁকি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেন গভীরভিত্তিক হামলা ও হত্যাচেষ্টা বাড়িয়েছে। যদিও কিয়েভ কিছু ঘটনার দায় স্বীকার এবং কিছু অস্বীকার করেছে।রাশিয়ার সাবেক ভাষণ লেখক ও বর্তমানে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত আব্বাস গালিয়ামভ সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করে বলেন, তারা কি বিদ্রোহের ভয়ে? নাকি সব অস্ত্র ইউক্রেনে ধ্বংস হয়ে গেছে?সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জন ফোরম্যান বলেন, ২০২৫ সালে এই কুচকাওয়াজে প্রায় ১১ হাজার সেনা ও ১৫০টি সামরিক যান অংশ নিয়েছিল। এবার অস্ত্র বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষ বাড়ছে।সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, অস্ত্র ছাড়া কুচকাওয়াজ অস্বাভাবিক হলেও অনেকে মনে করছেন প্রকৃত বিজয় তখনই আসবে যখন যুদ্ধ শেষ হবে।