আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির পাহাড় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (পর্ব–৩)
নেপথ্যের যোগসূত্রে সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তীর নাম, বিস্তৃত হচ্ছে অভিযোগের পরিধি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। পূর্ববর্তী দুই পর্বে নকল নবীশ নির্মল সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার (বড়বাবু) জব্বারকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, সর্বশেষ অনুসন্ধানে সেই দুর্নীতির শিকড়ে আরও প্রভাবশালী একটি নাম সামনে আসছে—সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তী।
স্থানীয় ভুক্তভোগী, দলিল সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি এবং জমি ব্যবসায়ীদের দাবি, আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে ওঠা কথিত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এককভাবে নয়; বরং একাধিক পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নীরবতা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার কারণেই এটি দীর্ঘদিন টিকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তী এই অনিয়ম সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয় গ্রাহকদের। এই প্রক্রিয়ায় নকল নবীশ নির্মল সরকার মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও, তার কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন নির্বিঘ্নে চলার পেছনে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের প্রশ্রয় রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তীর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সময়ে একই ধরনের অনিয়ম বারবার অভিযোগ আকারে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্ত চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে সেবা নিতে বাধ্য হন।বিশেষ করে জমির দলিলের মূল্য কম দেখানো, প্লট আকারে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাজস্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না নিয়ে নগদ লেনদেনে উৎসাহিত করার মতো অভিযোগগুলোতে সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তীর প্রশাসনিক দায়িত্ব ও তদারকির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও দলিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, “এই অফিসে একক কোনো কর্মচারী এত বড় অনিয়ম চালাতে পারে না। উপর মহলের নীরবতা বা সমর্থন না থাকলে এই সিন্ডিকেট বহু আগেই ভেঙে যেত।”
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্টার মিন্টু চক্রবর্তীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদক তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। একইভাবে অভিযুক্ত নকল নবীশ নির্মল সরকার ও সাব-রেজিস্টার জব্বারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশাশুনিবাসীর দাবি, এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দোষী যেই হোক না কেন—আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
(চলবে…)