সাতক্ষীরা অফিস:
আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে উন্নয়নের নামে যে লাগামহীন লুটপাট চলেছে, তার আরেকটি বাস্তব চিত্র দেখা গেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালি ইউনিয়নে। গাছা কৃষ্ণনগর ব্রিজ থেকে খড়িয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও সবকিছু উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসীর দাবি, সাবেক এমপি স্বৈরাচার দোসর হিসেবে পরিচিত তালা উপজেলার মেসার্স বসু ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার কল্যাণ বসু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ করেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছেন। অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় জনগণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয়ভাবে সড়ক পরিষ্কার না করেই কাদা ও বালির ওপর নামমাত্র বিটুমিন ঢালা হয়েছে। বিটুমিনের পরিমাণ এতই কম যে পা দিয়ে চাপ দিলেই পিচ উঠে আসছে। রাস্তার লেভেল ঠিক না থাকায় কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু হয়ে রয়েছে পুরো সড়ক।স্থনীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বিটুমিন দেওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর পিচ ঢালার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ১০–১২ ঘণ্টার মধ্যেই পিচ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত পাথরের গ্রেডেশন ও বিটুমিনের মান নিয়েও গুরুতর আপত্তি থাকলেও ঠিকাদার কোনো তোয়াক্কা না করেই কাজ শেষ করে ফেলেছেন।খলিষখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাফিকুল ইসলাম বলেন,“আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী আমলে এসব ঠিকাদার যা খুশি তাই করেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম সব অভিযোগ উপেক্ষা করেই রাস্তার কাজ শেষ করে ফেলেছে।”একই গ্রামের গফুর ইসলাম বলেন,
“শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারের লোকজন আমাদের হুমকি দিয়েছে। এখন কাজ শেষ—কিন্তু এই রাস্তা কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা সবাই শঙ্কিত।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাবেক এমপি আচারের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট তালা উপজেলায় এলজিইডির প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রশাসনের একাংশের নীরব ভূমিকাই এসব অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়েছে বলে দাবি তাদের।এ বিষয়ে সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রথীন্দ্রনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করেছিলাম।”তবে কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।ঠিকাদার কল্যাণ বসুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন,
“যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে অনিয়ম করেই কাজ শেষ করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে সম্পন্ন হওয়া এই সড়ক প্রকল্পের কাজ পুনরায় যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।