ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসাইন (হোসেন)-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এবার নৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মস্থলের ক্ষমতা ব্যবহার করে নারী সংশ্লিষ্ট অনৈতিক আচরণ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পাউবো সংশ্লিষ্ট কিছু নারী কর্মচারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“কাজের সুবিধা, বদলি ঠেকানো কিংবা বিল অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির চাপ দেওয়া হয়েছে।”তবে এসব অভিযোগ এখনো সরকারিভাবে তদন্তসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই বাকি।ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, যারা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন বা আপত্তি তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ, বদলি বা কাজের ফাইল আটকে রাখার মতো কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগও উঠেছে।
আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে নৈতিক স্খলনের যোগসূত্র?স্থানীয়দের প্রশ্ন—
দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগগুলো কি পরস্পর বিচ্ছিন্ন, নাকি একই প্রভাববলয়ের ফল? প্রকল্পের বিল, ঠিকাদারি সুবিধা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবকিছু কি একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে? প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
এত অভিযোগ ও গুঞ্জনের পরও—
কেন এখনো কোনো বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি?কেন নারী হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আলাদা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না?কেন পাউবো’র অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করা হয়নি? জনমত ও বিশেষজ্ঞদের মতসুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“দুর্নীতির পাশাপাশি নৈতিকতার প্রশ্ন উঠলে সেটি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রাখে। নচেৎ প্রতিষ্ঠান ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
জবাবের সুযোগএই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে/পরে রাকিব হোসাইন (হোসেন)-এর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হবে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্বে হুবহু প্রকাশ করা হবে।
(চলবে… অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: পর্ব–৩)