
নিজস্ব প্রতিবেদক দৈনিক সোনার বাংলাদেশ:
ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেবা খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, উন্নয়নকাজে কমিশন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল ও আবেদন নিয়ে হয়রানি এবং উন্নয়নকাজে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ। একটি প্রতিবেদনে ঠিকাদারি কাজে স্বজনপ্রীতি ও কমিশনখোরির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
আবুল কালাম আজাদের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে তুলনা করলে তাঁর নামে থাকা জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পদের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। একটি প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, বাজারমূল্য এবং বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে সরকারি তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে এখনই প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
বদলি হলেও অভিযোগের আলোচনা থামেনি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ এর আগে তেঁতুলঝোড়া ও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি ওয়েবসাইটেও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা তালিকায় তাঁর নাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া যায়।গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে দাবি
আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাঁর কর্মকাণ্ড ও সম্পদের উৎস নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি রয়েছে—এমন দাবি স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দৈনিক সোনার বাংলাদেশের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
পাল্টা বক্তব্যও রয়েছেঅন্যদিকে, আবুল কালাম আজাদ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যে দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার দাবি করা হয়েছে।ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তাঁর সম্পদ, আয়কর নথি, জমি ও ভবনের মালিকানা, ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক নথি, উন্নয়ন প্রকল্পের কাগজপত্র এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ—সবকিছু যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
দৈনিক সোনার বাংলাদেশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।