
নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয়দানকারী সামিউল্লাহ ইসলাম মনিরের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অনৈতিক সুবিধা দাবি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ভুক্তভোগী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুজ্জাহান কনককে অবহিত করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল্লাহ ইসলাম মনিরকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কার্যালয়ে আসার জন্য বলেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সামিউল্লাহ ইসলাম মনির।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে সাংবাদিকতার পরিচয়, পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবাদিকতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে প্রশাসনের দৃষ্টি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিউল্লাহ ইসলাম মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং কথাবার্তার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইউএনও তাঁকে ফোন করে কথা বলতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
ইউএনওকে দেখে নেওয়ার হুমকির অভিযোগ
অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুজ্জাহান কনক ফোন করে সামিউল্লাহ ইসলাম মনিরকে ডাকার পর তিনি উল্টো ইউএনওকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ সত্য হলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। তবে কথিত হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকতার পরিচয় কি ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের হাতিয়ার?
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পেশা। এই পেশার মূল উদ্দেশ্য জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।সাংবাদিকতার পরিচয় বহন করলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পরিচয় বা পদ-পদবি বিবেচনা না করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিসচেতন মহলের দাবি, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউএনওর সঙ্গে কথিত ফোনালাপ এবং হুমকির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
একই সঙ্গে শ্যামনগরে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।