
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুল ইসলামের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ জনগণের অভিযোগ—আওয়ামী লীগের আমলে স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সাবেক নেতা এখন দল বদল করে নিজের অতীত কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করছেন।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ওয়াহিদুল ইসলাম হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করলেও তার অতীত ভূমিকা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। জনগণের ভাষ্য—স্বৈরাচারী রাজনীতির দোসররা যখন নিজেদের অপরাধের হিসাব দিতে বাধ্য হয়, তখন তারা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আশ্রয় খোঁজে।
গতকাল রাত ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস এবং সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—আদর্শিক পরিবর্তনের নামে এ ধরনের দলবদল কি আদৌ গ্রহণযোগ্য? নাকি এটি শুধুই অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল? অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের স্বৈরাচারী ভূমিকার দায় এড়াতে চাইছেন, যা দলটির ভাবমূর্তির জন্যও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি—রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেই অতীত মুছে যায় না; স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগীদের অপকর্মের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।