
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
পাটকেলঘাটা বাজারের মীর সেনেটারী টাইলসের মালিক শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসা, হুন্ডি ও সীমান্তপথে পাচারের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ছিল, যার সুযোগে তিনি তার কথিত অবৈধ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেন।
এলাকাবাসী ও একাধিক ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে শাহিনের নামে ও তার ঘনিষ্ঠদের নামে পাটকেলঘাটা বাজার ও আশপাশে একাধিক দোকানঘর, জমি এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, স্বাভাবিক ব্যবসায়িক আয়ের সঙ্গে এই দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির কোনো সামঞ্জস্য নেই।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সীমান্তঘেঁষা এলাকার কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্বর্ণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের নীরবতায় বিষয়গুলো কখনোই আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।একজন সচেতন নাগরিক বলেন,
“স্বৈরাচারী শাসনামলে যারা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধভাবে লাভবান হয়েছে, তাদের সম্পদের উৎস এখন খতিয়ে দেখা জরুরি। তা না হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।”
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, অভিযোগের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে আসার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা জনমনে সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে।সচেতন মহল মনে করছে, পাটকেলঘাটাসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ ও অর্থ পাচার চক্রের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পেলে তা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।