নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে ঘিরে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে প্রভাব ব্যবহার করে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে।অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার প্রকৃত অবস্থা কী, কোন মামলায় কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালতে তার বর্তমান অবস্থান কী—তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গাড়িবহর হামলা মামলার সাক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন
২০০২ সালের কলারোয়া গাড়িবহর হামলা মামলায় হাবিবুর রহমান সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলায় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে তাঁরা খালাস পান।
এ ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—মামলার সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না এবং সাক্ষীদের বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল। এ বিষয়ে আদালতের নথি ও সাক্ষ্যবিবরণী নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি’—অভিযোগকারীদের দাবি
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও হাবিবুর রহমান তাঁর পেশাগত পরিচয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখানো হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, মামলা নম্বর, নথি বা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাই না করে কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হাবিবুর রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁরা।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা সংবাদমাধ্যমের অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
হাবিবুর রহমানের বক্তব্য: অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনটির পরবর্তী সংস্করণে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।