
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের জেলা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এম মান্নান কবির এবং ট্রেনিং অফিসার ডাক্তার বিষ্ণুপদ বিশ্বাস। খামারি ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ—দু’জন মিলেমিশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দপ্তরটিকে কার্যত অনিয়ম ও দুর্নীতির কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেছেন।স্থানীয় খামারিদের দাবি, সরকারি পশু চিকিৎসা সেবা, ভ্যাকসিন বিতরণ, ওষুধ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত অনিয়ম করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সেবা পেতে হলে খামারিদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত—
বিনামূল্যে বিতরণের কথা থাকা ভ্যাকসিন ও ওষুধ বাইরে বিক্রির অভিযোগ
খামারি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা প্রকল্পে ট্রেনিং অফিসারের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও পছন্দের লোক বাছাই
প্রকল্পভিত্তিক অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাব ও হিসাবের গরমিল
জেলা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে একক প্রভাব বিস্তার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ
কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খামারি জানান,
“জেলা অফিসে গেলে সেবা পাওয়া সহজ নয়। টাকা বা তদবির ছাড়া অনেক সময় কোনো কাজই হয় না। যারা প্রতিবাদ করে, তাদের নানা অজুহাতে ঘোরানো হয়।”সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রাণীসম্পদ বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এ ধরনের অভিযোগ শুধু দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে না, বরং জেলার খামার খাত ও জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার এফ এম মান্নান কবির ও ট্রেনিং অফিসার ডাক্তার বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আশা, জেলা প্রশাসন ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে আসবে।