
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হুমকি, গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে তালা উপজেলাসহ গোটা জেলায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলার যবুদলের সদস্য সচিব মোস্তফা হাসান মন্টু দুর্নীতির খবর প্রকাশ বন্ধ করতে দৈনিক যশোর বাতা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক আল-আমিন সরদারকে একাধিকবার ফোনে হুমকি দেন। তবে কোনো ধরনের সুপারিশ, চাপ বা হুমকি আমলে না নিয়ে সত্য প্রকাশে অটল থাকেন সাংবাদিক আল-আমিন সরদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মন্টু, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন—এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তালা উপজেলায় মন্টু ও তার কথিত সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিক আল-আমিন সরদারের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলে দৈনিক যশোর বাতা পত্রিকায়“সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টা”শিরোনামে সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (২৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) তারিখে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে, এর ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তালা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোস্তফা হাসান মন্টু বাদী হয়ে সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দৈনিক যশোর বাতা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক আল-আমিন সরদারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলার নথিতে সাংবাদিককে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও স্বৈরাচারীর দোসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা প্রাথমিক যাচাই ছাড়াই আদালত থেকে সমন জারি করে সাংবাদিক আল-আমিন সরদারকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিক মহলে আলোচনার ঝড়
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিক মহলে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন মনে করছে, এটি কেবল একজন সাংবাদিককে হয়রানির ঘটনা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলছেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করলেই যদি হত্যাচেষ্টা ও পাল্টা মামলার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণের দাবি, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে দৈনিক যশোর বাতা পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক আল-আমিন সরদার দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। এ কারণে তিনি একাধিকবার মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলেও তারা দাবি করেন।
মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত ছাড়াই সমন জারি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ন্যূনতম তদন্ত ছাড়া একজন কর্মরত সাংবাদিককে হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ভয়াবহ হুমকি এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল।বিশেষ করে, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিসেবে পরিচিত যুবদলের একজন নেতা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, এখনই যদি এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়, তাহলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিক আল-আমিন সরদারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।