সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর জেলা পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানের দিকে। সরকারি ফি নির্ধারিত থাকার পরও পাসপোর্টের অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন সেবাকে কেন্দ্র করে কম্পিউটার দোকানদার ও কথিত দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অনলাইনে আবেদন, ফরম পূরণ ও অন্যান্য কাজের নামে বাইরে থাকা কিছু কম্পিউটার দোকান থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ফির সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা বা তারও বেশি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ অনেকেই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় কম্পিউটার দোকানদারদের ওপর নির্ভরশীল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কম্পিউটার দোকানদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কয়েকটি কম্পিউটার দোকানের লোকজনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এসব দোকান থেকে পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন করাতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে কম্পিউটার দোকানদারদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ফলে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ সরকারি অফিসের সেবা নিতে গিয়ে বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও প্রশ্ন
শুধু কম্পিউটার দোকান নয়, পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে কথিত দালালদের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং এর বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কথিত দালালের সঙ্গে অফিসের কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিন অনুসন্ধান, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করা জরুরি।
সরকারি সেবায় অতিরিক্ত অর্থ কেন?
সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন—সরকার নির্ধারিত ফি দেওয়ার পর একজন পাসপোর্ট আবেদনকারীকে কেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে? অনলাইন আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি সেবার বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তার বৈধতা কী, সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা নিতে এসে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য বড় ধরনের হয়রানি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
তদন্তের দাবিসাতক্ষীরা জেলা পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাইরের কম্পিউটার দোকান এবং কথিত দালালদের মধ্যে কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি ও সেবার তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ নাগরিকদের।