
(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এডিপি ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বাস্তবায়িত একাধিক প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ লোপাট এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, মন্দির ও রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবে কাজের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
কাগজে প্রকল্প, বাস্তবে নেই কাজ
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্প কাগজে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি, কিংবা নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একই প্রকল্পে একাধিকবার বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছু প্রকল্পের নামে যেসব প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে, সেগুলোর অস্তিত্বই এলাকায় নেই। এতে ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
প্রকল্প কমিটির অজ্ঞতা
বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সভাপতি ও সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা প্রকল্পের কাজ বা অর্থ বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত নন। তাদের দাবি, নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে তারা কোনো কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না।
যোগসাজশের অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি চক্র পরস্পরের যোগসাজশে এসব অনিয়ম চালিয়ে আসছে। কম কাজ করে বেশি বিল উত্তোলন, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা এই চক্রের নিয়মিত কার্যক্রম বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদারকির অভাব প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকির অভাবে অনিয়ম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকেই প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেন না বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে।
তদন্তের দাবি
এলাকাবাসী এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
(চলবে)